সকল মেনু

সবশেষ
আপডেট

বর্ষায় বাতাসের আর্দ্রতায় ছত্রাক সংক্রমণ

বর্ষাকালে প্রকৃতি যেমন সজীব হয়ে ওঠে, তেমনি বেড়ে যায় বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও। বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ঘাম, বৃষ্টিতে ভেজা এবং দীর্ঘসময় শরীর স্যাঁতসেঁতে থাকার কারণে এ সময় ত্বকে ছত্রাক (ফাঙ্গাস) সংক্রমণের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। শিশু, বয়স্ক, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, স্থূলকায় মানুষ এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তারা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

কেন বর্ষায় ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়ে?

ছত্রাক উষ্ণ, আর্দ্র ও অন্ধকার পরিবেশে দ্রুত বংশবিস্তার করে। বর্ষাকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে বৃষ্টিতে ভেজা কাপড়, দীর্ঘসময় ভেজা জুতা-মোজা পরে থাকা এবং অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘক্ষণ স্যাঁতসেঁতে থাকে। বিশেষ করে বগল, কুঁচকি, স্তনের নিচে, ঘাড়ের ভাঁজ এবং পায়ের আঙুলের ফাঁকে ছত্রাক সহজেই সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

যেসব ছত্রাক সংক্রমণ বেশি দেখা যায়

অ্যাথলেটস ফুট (Tinea Pedis):
পায়ের আঙুলের ফাঁকে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, দুর্গন্ধ, ত্বক ফেটে যাওয়া বা চামড়া উঠে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। দীর্ঘসময় ভেজা জুতা-মোজা ব্যবহার করলে এ সমস্যা বেশি হয়।

দাউদ বা রিংওয়ার্ম (Tinea Corporis):
শরীরের যেকোনো স্থানে গোলাকার বা বৃত্তাকার লালচে দাগ তৈরি হয়। দাগের কিনারা সামান্য উঁচু থাকে এবং মাঝখান তুলনামূলক স্বাভাবিক দেখায়। তীব্র চুলকানি এ রোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ছুলি (Tinea Versicolor):
বুক, পিঠ, ঘাড় বা কাঁধে সাদা, বাদামি কিংবা কালচে ছোট ছোট দাগ দেখা যায়। সাধারণত ব্যথা না থাকলেও ত্বকের রঙের পরিবর্তনের কারণে এটি সহজেই চোখে পড়ে।

ছবি: সংগৃহীত

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

  • বৃষ্টিতে ভিজলে যত দ্রুত সম্ভব গোসল করে শরীর ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
  • সুতি, আরামদায়ক ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, যাতে ঘাম কম জমে।
  • প্রতিদিন পরিষ্কার ও শুকনা পোশাক এবং অন্তর্বাস ব্যবহার করুন।
  • ভেজা জুতা-মোজা পরে থাকবেন না। বাইরে থেকে ফিরে পা ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
  • ব্যায়াম বা অতিরিক্ত ঘামের পর দ্রুত পোশাক পরিবর্তন করুন।
  • তোয়ালে, পোশাক, চিরুনি বা রেজরের মতো ব্যক্তিগত জিনিস অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন না।
  • ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন, কারণ অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

ঘরবাড়ি রাখুন আর্দ্রতামুক্ত

ছত্রাক শুধু শরীরেই নয়, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশেও দ্রুত জন্মায়। তাই—

  • প্রতিদিন জানালা খুলে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন।
  • রান্নাঘর ও বাথরুমে এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন।
  • কার্পেট, ম্যাট ও ভেজা কাপড় দ্রুত শুকিয়ে ফেলুন।
  • এয়ার কন্ডিশনার ও ফ্যানের ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
  • দেয়াল বা ছাদে ছত্রাকের দাগ দেখা দিলে ব্লিচিং দ্রবণ বা উপযুক্ত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করুন।
  • পানির পাইপে লিকেজ থাকলে দ্রুত মেরামত করুন।
ছবি: সংগৃহীত

আক্রান্ত হলে কী করবেন?

ত্বকে ছত্রাক সংক্রমণ হলে আক্রান্ত স্থান সবসময় পরিষ্কার ও শুকনা রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম, পাউডার বা ওষুধ ব্যবহার করুন। অনেকেই চুলকানি কমানোর জন্য নিজে থেকে স্টেরয়েডযুক্ত মলম ব্যবহার করেন, যা সাময়িকভাবে উপশম দিলেও সংক্রমণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের মলম ব্যবহার করা উচিত নয়।

সংক্রমণ যদি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, বারবার ফিরে আসে, ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বের হয়, তীব্র ব্যথা বা জ্বর দেখা দেয়, অথবা ডায়াবেটিস ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকার মতো সমস্যা থাকে, তাহলে অবশ্যই দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।

শেষ কথা

বর্ষা উপভোগের আনন্দ যেন ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণে ম্লান না হয়। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, শরীর ও পরিবেশ শুকনা রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে এই সংক্রমণ সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। সামান্য সচেতনতাই আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে বর্ষাকালের এই সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা থেকে নিরাপদ রাখতে পারে।

ফন্ট সাইজ:
0Shares
আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলো করুন

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

×
নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন