সকল মেনু

সবশেষ
আপডেট

ফুলবাড়ীতে লিজকৃত পুকুর থেকে মাছ লুটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক সংখ্যালঘু মৎস্য চাষীর লিজ নেওয়া পুকুর থেকে রাতের আঁধারে প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনাকালে তিনি পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদসংলগ্ন রাবেয়া কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মৎস্য চাষী শ্রী পূর্ণ চন্দ্র দাস।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ফুলবাড়ী উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের ১ নম্বর খতিয়ানের ১৬০৮ নম্বর দাগভুক্ত সাড়ে চার একর অর্পিত সম্পত্তির পুকুর সরকারি নিয়মে ইজারা নিয়ে ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করে মাছ চাষ করে আসছেন।

তিনি জানান, গত ২৩ জুলাই উপজেলায় ৬৪টি অর্পিত পুকুরের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। ওই নিলামে তিনি অংশ নিলেও নুরুল ইসলাম নামে একজন সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হন। তবে তাঁর অভিযোগ, সরকারি কোষাগারে নিলামের অর্থ জমা না দিয়েই এবং তাঁকে কিছু না জানিয়ে গত ২৭ জুলাই গভীর রাতে নুরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা ইজারা কমিটির যোগসাজশে জোরপূর্বক তাঁর চাষ করা পুকুর থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ তুলে নিয়ে যান।

পূর্ণ চন্দ্র দাসের দাবি, ঘটনার সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে ফোন করলেও তারা ফোন ধরেননি। পরে থানায় ফোন করলে ডিউটি অফিসারের নির্দেশে এসআই আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে জাল ও পিকআপ দেখতে পেলেও পুলিশ কাউকে আটক না করে সেখান থেকে চলে আসে। এ সময় পুকুরের পাহারাদার পুলিশের গাড়িতে কয়েকটি ব্যাগভর্তি মাছ দেখতে পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পরদিন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউল ইসলামের সঙ্গে দেখা করলে প্রথমে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তাঁকে দেওয়ানি আদালতে চুরির মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পূর্ণ চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, উপজেলায় একযোগে ৬৪টি পুকুরের নিলাম হলেও অন্য কোনো পুকুরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। তিনি দাবি করেন, সংখ্যালঘু হওয়ার কারণেই তাঁর পুকুরের মাছ লুট করা হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তিনি মামলা করার বিষয়ে ভাববেন।

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিপূরণ এবং ভূমি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম মাস্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, পূর্ণ চন্দ্র দাসের লিজের মেয়াদ চার মাস আগেই শেষ হয়েছে। তিনি পুকুরের পানি সেচে মাছ ধরছিলেন, তাই তিনি বাধা দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, পানি সেচে ফেলা হলে পরবর্তীতে পুকুরে মাছ ছাড়ার জন্য পানি পাওয়া যেত না। তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাছ লুট করেছি-এমন কোনো প্রমাণ আছে? যদি পুলিশ ঘটনাস্থলে আমাদের দেখে থাকে, তাহলে জাল ও পিকআপ জব্দ করেনি কেন?’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, পুকুরের মাছ লুটের বিষয়ে তাঁর কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছেন। তিনি ভুক্তভোগীকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, মাছ লুট বা পুলিশের মাছ নিয়ে আসার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফন্ট সাইজ:
0Shares
আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলো করুন

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

×
নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন