লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশকে নিয়ে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এই জোটের প্রধান লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে জোট গঠনের ঘোষণা দেয়। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং আশপাশের জলসীমায় নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। হুথিদের দাবি, তারা লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজ এবং দেশটির তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানিতে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার পর সৌদি আরবের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হচ্ছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জোটে অংশ নেওয়া ১৪টি দেশ হলো—সৌদি আরব, বাহরাইন, বাংলাদেশ, জিবুতি, মিসর, জর্দান, কুয়েত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কাতার, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, জোটের উদ্দেশ্য হলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা, নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে সদস্য দেশগুলোর অভিন্ন সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা করা।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জোট গঠন নিয়ে বৃহস্পতিবার রিয়াদে আয়োজিত বৈঠকে ৫১টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বৈঠকে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৪টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দিয়েছে, আর কয়েকটি দেশ যোগদানের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
সূত্র : গালফনিউজ
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।