আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে করা ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলেই ইতিহাস গড়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ফলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার।
ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল অধিক সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত। টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ফাইনালে ওঠা স্প্যানিশরা শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে। অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পায়নি।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই স্পেন এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পায়। তবে লামিন ইয়ামাল কাছ থেকে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন। ১২তম মিনিটে স্পেনের কর্নার থেকে তৈরি হওয়া বিপদও দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। প্রথমার্ধজুড়ে স্পেনের ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের সামনে রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল আর্জেন্টিনা। বলের দখলে স্পষ্ট আধিপত্য দেখালেও বিরতির আগে গোলের দেখা পায়নি স্প্যানিশরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছন্দে আক্রমণ চালিয়ে যায় স্পেন। তবে একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তার দুর্দান্ত সব সেভে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত গোলশূন্যই থাকে ম্যাচ।
যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। বক্সের বাইরে থেকে আসা বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিকো উইলিয়ামস সেটি বাড়িয়ে দেন ফাঁকায় থাকা ফেরান তোরেসের কাছে। চলন্ত বলেই জোরালো শটে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড। সেই গোলেই উল্লাসে মেতে ওঠে স্প্যানিশ শিবির।
গোল হজমের পর ১০ জনের আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১–০ গোলের জয় নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরে স্পেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।