সরকার গঠনের প্রায় ছয় মাস পর মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক পরিবহন, তথ্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি মন্ত্রিসভার আকারও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন, কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্য এবং বিভিন্ন ইস্যু সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ কারণে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে ১৮ জন মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকেই সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। একই সময়ে এক প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আচরণসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে বেশি আলোচনা
সম্ভাব্য রদবদলের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দুর্যোগের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন এবং কয়েকটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, তাকে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তার স্থানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহাদী আমিনের নামও আলোচনায় রয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তনের গুঞ্জন রয়েছে। বিভিন্ন বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন সম্পর্কে তার একটি বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে মূল বিষয়ে থাকার পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
বিতর্কে কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা রয়েছে। একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ঘটনায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তথ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও নতুন টেলিভিশন লাইসেন্স অনুমোদনে তদবিরের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে এক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এবং একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর তার দপ্তরেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন চলছে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। তবে একটি ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মের দাবি, ভিডিওটি এআই-নির্মিত নয়।
দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা
সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বর্তমানে শেখ রবিউল আলমের হাতে। প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে তার দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে আলোচনা রয়েছে।
নতুন মুখের সম্ভাবনা
মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হলে কয়েকজন সংসদ সদস্য নতুন দায়িত্ব পেতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে। আলোচনায় রয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আব্দুস সালাম আজাদ, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, খন্দকার আবু আশফাক, নজরুল ইসলাম আজাদ এবং মো. মজিবুর রহমান।
এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। জোটের শরিক দল থেকেও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
সরকারের বক্তব্য
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্দিষ্ট সময় পর সরকারের কাজের মূল্যায়ন করা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, সরকারের কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা স্বাভাবিক বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নুরুল আমিন বেপারীর মতে, প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়াতে প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা স্বাভাবিক। বিতর্ক এড়িয়ে প্রশাসনের গতি বাড়ানোই এমন সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দেশ্য হতে পারে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।