থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত সংঘাত নতুন করে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আজ সোমবার ভোরে কম্বোডিয়ার সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে থাইল্যান্ডের বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে কম্বোডীয় সেনাবাহিনী। রোববারের সংঘর্ষের পর এই বিমান হামলায় ১৫ বছরের যুদ্ধবিরতি কার্যত হুমকিতে পড়েছে।
কম্বোডীয় সেনাবাহিনীর আইএসপিআর এক পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজ সোমবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৪ মিনিটে কম্বোডিয়ার সেনা স্থাপনা ও সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে থাইল্যান্ডের বিমান বাহিনী হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত বেশ কিছুদিন ধরে থাই সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন উসকানিমূলক তৎপরতা চালাচ্ছে এবং সোমবারের বিমান হামলা তারই অংশ বলে মনে করছে কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনী। তবে এই বিমান হামলায় কম্বোডিয়ার ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।
বিমান হামলার আগে রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫মিনিটে সি সা কেত প্রদেশের সীমান্ত লক্ষ্য করে কম্বোডীয় সেনাবাহিনী গুলি ছোড়ে। এতে দু’জন থাই সেনা আহত হন। এ ঘটনার পর থাই সেনাবাহিনীও পাল্টা জবাব দেয় এবং সংঘাতটি স্থানীয় সময় ২টা ৫০ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
এই সংঘাতের জেরে থাইল্যান্ড সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সিএনএনের তথ্য অনুসারে, কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী চার থাই প্রদেশ বুরি রাম, সুরিন, সি সা কেত এবং উবন রাতচাথানি থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় থাইল্যান্ডের সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সীমান্তবর্তী গ্রাম-শহরগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রোববার জাতিসংঘে কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ জানিয়েছিল থাইল্যান্ড। থাই সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত এলাকায় থাই ভূখণ্ডে গোপনে বড় এলাকা জুড়ে কম্বোডিয়া ল্যান্ডমাইন পেতেছে। এসব ল্যান্ডমাইনের বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন থাই ও চীনা নাগরিক আহত হয়েছেন। থাই সরকার জাতিসংঘকে এ ঘটনা তদন্তের জন্য আহ্বান জানিয়েছিল। এই অভিযোগ জানানোর কিছু সময়ের মধ্যেই সি সা কেত প্রদেশে দু’দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।
উল্লেখ্য, সীমান্ত নিয়ে বিবাদের জেরে দীর্ঘ ১৫ বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত জুলাই মাসেও থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সংঘাতে জড়িয়েছিল। ৫ দিন ধরে চলা সেই সংঘাতে দু’দেশের ৩২ জন নাগরিক নিহত এবং কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছিলেন। সেই সঙ্গে সীমান্তের উভয় পাশের অন্তত ২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের হস্তক্ষেপে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়, যা রোববারের সংঘাতের জেরে বর্তমানে হুমকির মুখে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।