ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই চরম তাপপ্রবাহে এখন পর্যন্ত ১,৩০০-রও বেশি মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফ্রান্সে, যেখানে কেবল একটি দেশেই প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১,০০০ মানুষ। দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থার রোববার প্রকাশিত এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তথ্যগুলো প্রাথমিক পর্যায়ের হলেও তাপপ্রবাহ চলাকালে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই অতিরিক্ত মৃত্যুর বড় অংশই ঘটেছে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে। এছাড়া তীব্র গরমের কারণে সাধারণ সময়ের তুলনায় বাড়িতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা ১১ দিন ধরে চলা এই দাবদাহের কারণে ফরাসি হাসপাতালগুলো এখনও রোগীতে উপচে পড়ছে এবং চিকিৎসা কর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন।
রাজধানী প্যারিসের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা সামু জানিয়েছে, গত শনিবার তারা ৮০টি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যার মধ্যে ৩০ জনই মারা গেছেন হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে। এর আগের দিন শুক্রবার এই সংখ্যা ছিল ১০৯। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, এটি কেবল জরুরি সেবার আওতায় আসা মৃত্যুর হিসাব, পুরো রাজধানীর প্রকৃত চিত্র এর চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।
এদিকে শনিবার রাতে ফ্রান্সজুড়ে ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি বজ্রপাত রেকর্ড করেছে কেরাউনোস আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, যার বড় অংশই হয়েছে প্যারিস ও ও-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে। রোববারের এই বজ্রঝড়ের কারণে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি এখনও কাটেনি। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাপমাত্রা কমলেও দাবদাহের স্বাস্থ্যগত প্রভাব এখনও রয়ে গেছে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে মৃত্যুর হার এখনও বেশি দেখা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সোমবারও প্যারিসসহ আশপাশের এলাকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলের মোট ২২টি বিভাগে কমলা সতর্কতা জারি রেখেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা মেতেও-ফ্রান্স। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে বয়স্ক এবং একা বসবাসকারী মানুষদের বাড়তি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এই তাপপ্রবাহে হওয়া প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।