নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার সর্বস্তরের দাপ্তরিক নথিতে ইউনিয়নগুলোর সঠিক ক্রমিক নম্বর বজায় রেখে তথ্য সংশোধন ও হালনাগাদ করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারি গেজেট এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মূল ডাটাবেজ উপেক্ষা করে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ইউনিয়নগুলোর নম্বর উলটপালট করায় চরম বিভ্রান্তি ও নাগরিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, কেন্দুয়া উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে ইউনিয়নগুলোর দাপ্তরিক নাম্বারিং বা ক্রমিক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ভুল হিসাব চলে আসছে, যা নিরসনে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক কারণে সাবেক ১ নং মদনপুর ইউনিয়নটি বেশ আগে নেত্রকোণা সদর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হয় (যা বর্তমানে সদরের ১২ নং ইউনিয়ন হিসেবে পরিচালিত)। মদনপুর সদরে চলে যাওয়ার পর কেন্দুয়ায় ইউনিয়নের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩টিতে। তবে সরকারি গেজেটে কেন্দুয়ার বাকি ১৩টি ইউনিয়নের আদি ক্রমিক নম্বর কিন্তু অপরিবর্তিতই রাখা হয়। অর্থাৎ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তালিকায় কোনো নতুন নম্বর বিন্যাস বা পুনর্বিন্যাস করা হয়নি। ২ নং থেকে শুরু করে ১৪ নং পর্যন্ত সবগুলো ইউনিয়নের নম্বর আগের মতোই বহাল রয়েছে।
কিন্তু মাঠপর্যায়ের অনেক সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, অনলাইন ডাটা এন্ট্রি এবং ফরম পূরণের সময় ১ নং ইউনিয়ন না দেখে ভুলবশত ২ নং আশুজিয়া ইউনিয়নকে ‘১ নং’ ধরে নতুন তালিকা তৈরির ভুল করছেন। এর ফলে সরকারি গেজেটের সাথে বাস্তব তথ্যের বড় ধরনের অমিল দেখা দিচ্ছে।
কেন্দুয়া পৌরসভা (উপজেলার একমাত্র পৌরসভা)
ইউনিয়নসমূহের সঠিক সরকারি ক্রমিক নম্বর:
১ নং – (মদনপুর ইউনিয়ন — বর্তমানে নেত্রকোণা সদরের অন্তর্ভুক্ত)
২ নং – আশুজিয়া ইউনিয়ন
৩ নং – দলপা ইউনিয়ন
৪ নং – গড়াডোবা ইউনিয়ন
৫ নং – গণ্ডা ইউনিয়ন
৬ নং – সান্দিকোনা ইউনিয়ন
৭ নং – মাসকা ইউনিয়ন
৮ নং – বলাইশিমুল ইউনিয়ন
৯ নং – নওপাড়া ইউনিয়ন
১০ নং – কান্দিউড়া ইউনিয়ন
১১ নং – চিরাং ইউনিয়ন
১২ নং – রোয়াইলবাড়ী আমতলা ইউনিয়ন
১৩ নং – পাইকুড়া ইউনিয়ন
১৪ নং – মোজাফরপুর ইউনিয়ন
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মতে, দাপ্তরিক কাজে সঠিক ক্রমিক নম্বর ব্যবহার না করায় ডিজিটাল সেবা গ্রহণ, জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) তথ্য যাচাই, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং সরকারি বরাদ্দসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাজে সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের এই সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো থাকার পরও নাম্বারিংয়ের এই গড়মিল কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তাই অবিলম্বে উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (UDC) এবং সর্বস্তরের দাপ্তরিক নথিতে এই সঠিক ক্রমানম্বরটি কঠোরভাবে বজায় রেখে তথ্য সংশোধন ও অনলাইন পোর্টালগুলো হালনাগাদ করার জোর দাবি জানিয়েছেন উপজেলার সর্বস্তরের বাসিন্দারা।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।