পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের মিশন শুরুটা সুখকর হলো না। গ্রুপ ‘সি’-র হাইভোল্টেজ ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে সেলেসাওদের। ম্যাচের এই হতাশাজনক ফলাফলের চেয়েও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিলের মাঠের পারফরম্যান্স। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণহীনতা, রক্ষণভাগের অসংগতি আর আক্রমণভাগের ধারহীনতা কার্লো আনচেলত্তির দলের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে মাঠের দখল ছিল পুরোপুরি মরক্কোর হাতে। কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা প্রথাগত রক্ষণাত্মক কৌশলে না গিয়ে শুরু থেকেই হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলে ব্রাজিলকে চেপে ধরে। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই বেনজামিন এল আইনুইয়ের বিপজ্জনক আক্রমণ দিয়ে তারা নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দেয়। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজ মাঝমাঠের সুতো টেনেছেন দারুণভাবে, আর উইং ধরে আশরাফ হাকিমিদের গতি সামলাতে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে ব্রাজিলের ফুলব্যাকদের। এর ফল আসে ম্যাচের ২১ মিনিটে, চমৎকার ওয়ান-টাচ ফুটবলের নিখুঁত প্রদর্শনীতে গোল করে মরক্কোকে এগিয়ে নেন ইসমায়েল সাইবারি।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল কিছুটা গুছিয়ে উঠে খেলায় ফিরলেও তা তাদের চিরচেনা ছন্দ থেকে অনেক দূরে ছিল। বিশেষ করে আক্রমণভাগে নতুন ভরসা হিসেবে নামা ইগর থিয়াগো প্রথমার্ধে যে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেছেন, তা বিশ্বকাপের মঞ্চে ক্ষমার অযোগ্য। বক্সে তার টাইমিং ও পজিশনিংয়ের দুর্বলতার পাশাপাশি ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে বোঝাপড়ার অভাব স্পষ্ট ছিল। একই সাথে হতাশ করেছেন বার্সেলোনা তারকা রাফিনিয়াও। চোট কাটিয়ে ওঠার পর ফর্মহীনতায় ভোগা রাফিনিয়া আজ মাঠে কিছুই করতে পারেননি। অবশ্য রাফিনিয়ার চেয়েও খারাপ খেলেছেন ডিফেন্ডার রজার ইবানিয়েন্তো ও মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে দু-একজন ছাড়া ব্রাজিলের পুরো দলই ছিল ব্যর্থ।
কৌশলগত লড়াইয়ে মরক্কোর কোচের হাই-প্রেসিং ও কাউন্টার-অ্যাটাকিং প্ল্যানের কাছে প্রথমার্ধে পরাস্ত হয়েছিলেন আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধে ডিফেন্স কিছুটা জমাট করে হার এড়ানো গেলেও টুর্নামেন্টের বাকি পথ পাড়ি দিতে হলে ব্রাজিলকে মাঝমাঠের খোলস ছেড়ে বের হতেই হবে। ম্যাচের পর পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, শুধু তারকা ঠাসা দল হলেই চলে না, মাঠে দলগত ভারসাম্যও জরুরি।
দলটি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয় এবং দেখে মনে হয়েছে তারা কেবলই ‘কাগুজে বাঘ’। আনচেলত্তি এখনো তার সেরা শুরুর একাদশই খুঁজে পাননি। তবে ব্রাজিলের সামনে এখন তুলনামূলক সহজ দুটি ম্যাচ রয়েছে। নকআউট পর্বের কঠিন লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের দুর্বলতাগুলো শুধরে নেওয়ার এবং সমন্বয় ও ছন্দ খুঁজে পাওয়ার এটাই সেরা সুযোগ সেলেসাওদের।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।