সিলেটে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ ঝুমকি রানী দেবকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। সংবাদ সম্মেলন থেকে এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
নিহত ঝুমকি রানী দেব গোলাপগঞ্জের বাঘা গৌরাবাড়ির সন্নৎ কুমার দেবের মেয়ে। গত ৯ মার্চ হেতিমগঞ্জ পূর্বপাড়ার মৃত সত্যেন্দ্র দাসের ছেলে চঞ্চল দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ঝুমকির বাবা সন্নৎ কুমার দেব অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই আসবাবপত্র ও স্বর্ণের চেইনের দাবিতে স্বামী চঞ্চল দাস, তাঁর ভাই সঞ্জিত দাস ও রঞ্জিত দাসসহ পরিবারের সদস্যরা ঝুমকির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ মে সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ঝুমকি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে বাপের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ঝুমকির স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, স্বামী চঞ্চলসহ পরিবারের সবাই পলাতক। এ সময় ঝুমকির নিথর দেহের পা দুটি খাটের বিছানার সঙ্গে লাগানো এবং দুই হাতের কব্জি শক্ত করে বাঁধা অবস্থায় ছিল, যা ঝুলন্ত আত্মহত্যার লক্ষণের সঙ্গে মেলে না।
লাশের এই পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। তাঁরা আরও জানান, ঘটনার পর থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায় গত ২ জুন তাঁরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।