সকল মেনু

মুন্সীগঞ্জে গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর হত্যা, গ্রেফতার ৪

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ফুলদী নদীর শাখা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ হালিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় হালিমাকে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ২৯ মে গজারিয়া উপজেলার ফুলদী নদীর শাখা নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক তরুণীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের অবস্থা খারাপ থাকায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায় নিহত তরুণী উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামলদী গ্রামের মহসিন মিয়ার মেয়ে হালিমা আক্তার। এ ঘটনায় নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে নেমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গজারিয়া উপজেলার বড় ভাটেরচর এলাকার আবু কালাম, জামাল হোসেন, রাসেল মিয়া ও আলামিন প্রধান নামের চারজনকে গ্রেফতার করে পিবিআই।

জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামিরা জানান, হালিমার কাছে আবু কালামের প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেল মিয়ার ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এছাড়া জামাল হোসেনের সঙ্গে হালিমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ পেলে সামাজিকভাবে বিব্রত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং এসব কারণেই মূলত তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনামতে ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে গজারিয়ার হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি স্থানে বৈঠক করে আসামিরা হালিমাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৬ মে সন্ধ্যার পর কৌশলে হালিমাকে ডেকে নিয়ে নৌকাযোগে নদী পার করে বড় ভাটেরচর এলাকার একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর তার পরনের টাইটস গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহটি গুম করা এবং আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে হাত-পা বেঁধে ফুলদী নদীর শাখা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রাইম সিন পরিদর্শন এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই এই নৃশংস ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতার চার আসামিই আদালতে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

×