নেত্রকোণায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। দুর্যোগ কবলিত ও বানভাসি মানুষের কষ্ট লাঘবে তাঁর বিশেষ নির্দেশনায় জেলার ১০টি উপজেলায় বিপুল পরিমাণ চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ মে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক সরকারি চিঠিতে এই বিশেষ মানবিক সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, হাওড়াঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘবে মে ও জুন—এই দুই মাসের জন্য এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তালিকাভুক্ত প্রতিটি পরিবার বিনামূল্যে ১৫ কেজি চাল এবং নগদ ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। ত্রাণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোণা জেলার ১০টি উপজেলার মোট ৪০,৯১৩টি বানভাসি পরিবার এই মানবিক সহায়তার আওতায় আসছে। দুই মাসের মোট বরাদ্দ হিসেবে সর্বমোট ১,২২৭.৩৯ মেট্রিক টন চাল এবং ২৪ কোটি ৫৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছে।
উপজেলা ভিত্তিক বরাদ্দের তথ্যে দেখা যায়, খালিয়াজুড়িতে ৭,৮৩১টি পরিবারের জন্য ২৩৪.৯৩ মেট্রিক টন চাল ও ৪ কোটি ৬৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। কলমাকান্দায় ৬,৩২০টি পরিবারের জন্য ১৬৪.৬ মেট্রিক টন চাল ও ৩ কোটি ৯৭ লাখ ২২ হাজার টাকা, মদনে ৫,৩২৯টি পরিবারের জন্য ১৫৯.৮৭ মেট্রিক টন চাল ও ৩ কোটি ১৯ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং কেন্দুয়ায় ৪,৯৩৯টি পরিবারের জন্য ১৪৮.১৭ মেট্রিক টন চাল ও ২ কোটি ৯৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া মোহনগঞ্জে ৪,৪৭৫টি পরিবারের জন্য ১৩৪.২৫ মেট্রিক টন চাল ও ২ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, নেত্রকোণা সদরে ৩,৭৯৫টি পরিবারের জন্য ১১০.৮৫ মেট্রিক টন চাল ও ২ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা, আটপাড়ায় ৩,২০৮টি পরিবারের জন্য ৯৬.২৪ মেট্রিক টন চাল ও ১ কোটি ৯২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, বারহাট্টায় ২,২৪৯টি পরিবারের জন্য ৬৭.৪৭ মেট্রিক টন চাল ও ১ কোটি ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, দুর্গাপুরে ১,৭৩৪টি পরিবারের জন্য ৫১.১২ মেট্রিক টন চাল ও ১ কোটি ৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা এবং পূর্বধলায় ১,০৬৩টি পরিবারের জন্য ৩১.৮৯ মেট্রিক টন চাল ও ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ত্রাণ কার্যক্রমে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সেজন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের অনুকূলে এই অর্থ ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, স্থানীয় মাননীয় সংসদ বন্ধুদের সাথে পরামর্শক্রমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ উপায়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা যাচাই করে এই মানবিক সহায়তা বিতরণ করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই বরাদ্দ ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ২০১২-১৩ অনুসরণ করে এই বরাদ্দ বিতরণ করতে হবে এবং অডিটের জন্য প্রয়োজনীয় হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে। বিতরণে শতভাগ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই বরাদ্দপত্রটি সংশ্লিষ্ট উপজেলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আকস্মিক বন্যায় ফসল ও ঘরবাড়ি হারানো কৃষকেরা সরকারের এই দ্রুত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের আশা, সঠিক তদারকির মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে দ্রুত এই সহায়তা পৌঁছে দিলে হাওড়াঞ্চলের মানুষের কষ্ট অনেকটাই দূর হবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।