সকল মেনু

বাম্পার ফলনে খুশি চাষি, তবু খরচের চাপে মুখে উদ্বেগ

ভোলার মাঠে মাঠে এখন সবুজ-হলুদ ধানের ঢেউ। কোথাও সবুজ পাতার মাঝে সোনালি শীষ, কোথাও পেকে উঠেছে পুরো মাঠ। এ বছর জেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনেক চাষির মুখে হাসি ফুটেছে, তবে উৎপাদন খরচের বেড়ে যাওয়া ও দেনার বোঝা নিয়ে কারও কারও চোখে উদ্বেগের ছায়া।

চাষি মোহাম্মদ রফিক বলেন, “এ বছর আমন করে খুব খুশি। যত খরচ হয়েছে, তার চেয়ে দ্বিগুণ লাভের আশা করছি। দেনা-পাওনা পরিশোধ করে স্বস্তি পাবো বলে মনে হচ্ছে।”

কিন্তু একই মাঠের অন্য চাষি মোহাম্মদ আকবরের কণ্ঠে ভিন্ন সুর: “বাম্পার ফলন হলেও আনন্দিত নই। সার-বীজ, শ্রমিক মজুরি সবকিছুর দাম বেড়েছে। খরচের তুলনায় লাভ খুবই কম। দেনা করে চাষ করায় আয়ের বড় অংশ ঋণ শোধেই চলে যাবে। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হবে।”

চাষিদের সাধারণ অভিযোগ—ফলন যতই ভালো হোক, সার-বীজের দাম বৃদ্ধি, শ্রমিক মজুরির উচ্চহার ও দেনার চাপ লাভের হিসাবকে অনেকাংশে সংকুচিত করে দিয়েছে। তবু বাম্পার ফলনে অধিকাংশ কৃষকের মুখেই স্বস্তির হাসি।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সঠিক পরিচর্যায় আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে।তবে কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাজারে ধানের দাম স্থিতিশীল না হলে চাষিদের পুরোপুরি স্বস্তি মিলবে না। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন অনেক কৃষক। বাম্পার ফলনে মাঠে সোনা ঝরছে, কিন্তু চাষির মনে খুশির পাশাপাশি রয়েছে খরচের চাপ—এই দ্বিধা নিয়েই এবার আমন মৌসুম শেষ হচ্ছে ভোলায়।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

×