সকল মেনু

কেন্দুয়ায় ২৮০ টন চাল লুটের অভিযোগে দুদকের হানা: কাঠগড়ায় খাদ্য কর্মকর্তা ও ডিলাররা

নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আগস্ট মাসের বরাদ্দকৃত ২৮০ মেট্রিক টন চাল চুরির অভিযোগ তদন্তে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন ব্যুরোর সহকারী পরিচালক রাজু মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি অনুসন্ধানী টিম দিনভর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে তদন্ত পরিচালনা করে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:

উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মোট ৯ হাজার ৩৯৯ জন হতদরিদ্র সুবিধাভোগীর জন্য প্রতি মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের কথা। অভিযোগ উঠেছে, চলতি বছরের আগস্ট মাসের জন্য বরাদ্দকৃত ২৮০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সুবিধাভোগীদের না দিয়ে স্থানীয় খাদ্য কর্মকর্তা ও ডিলারদের যোগসাজশে কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। সুবিধাভোগীরা সময়মতো চাল না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

​অভিযান ও তদন্ত:
দুদকের এই অনুসন্ধানী টিম বুধবার কেন্দুয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গিয়ে সকল নথিপত্র পর্যবেক্ষণ করেন। পরে তারা উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নে ডিলার আউটলেট পরিদর্শন করেন এবং ভুক্তভোগী কার্ডধারী, সংশ্লিষ্ট ডিলার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তদন্তের স্বার্থে দুদক কর্মকর্তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র জব্দ করে নিয়ে গেছেন।

পরস্পরবিরোধী বক্তব্য:
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (খাদ্য কর্মকর্তা) কাওসার আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ডিলাররা গত ২৫ আগস্ট চাল উত্তোলন করেছেন। কার্ডধারীরা সঠিক সময়ে না পেলেও পরের মাসে চাল পেয়েছেন। আমার কাছে এর রেকর্ড রয়েছে।” তবে তিনি এক পর্যায়ে স্বীকার করেন যে, বিতরণ প্রক্রিয়ায় ‘কিছুটা অনিয়ম’ হয়েছে, যা ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে হওয়ার কথা ছিল।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ডিলার বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, বরাদ্দ সম্পর্কে তারা কিছুই জানতেন না। তাদের অজান্তে কীভাবে চাল বিক্রি হলো তা নিয়ে তারা বিস্মিত। এছাড়া তারা অভিযোগ করেন, ডিলারশিপ নবায়নের কথা বলে খাদ্য কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে ইউএনও’র কাছে নালিশ যাওয়ার পর এবং জানাজানি হওয়ার পর খাদ্য কর্মকর্তা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একাধিক বৈঠক করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ তিন মাস পর নভেম্বর মাসে সুবিধাভোগীদের আগস্ট ও নভেম্বর মাসের চাল একসাথে দেওয়া হয়।

দুদকের ভাষ্য:
দুর্নীতি দমন ব্যুরো ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক রাজু মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “ভুক্তভোগীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা আজ তদন্ত করেছি। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে এবং নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে কেন্দুয়ার ১৩টি ইউনিয়নের ২৬ জন ডিলারের অনুকূলে এই চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও অভিযোগের তীর মূলত উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ডিলারদের দিকেই। দুদকের এই অভিযানে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

×