রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগীর বাবা-মা, বড় বোন ও প্রতিবেশীসহ মোট ১৬ জন আদালতে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু জানান, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ঘটনার দিনের ভয়াবহ চিত্র এবং আসামি সোহেল রানার পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
মামলার বাদী ও রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি অফিসের উদ্দেশ্যে বের হন। সকাল ১০টার দিকে তার স্ত্রী ফোন করে তাকে জরুরি ভিত্তিতে বাসায় আসতে বলেন। বাসায় ফিরে তিনি দেখেন তাদের ফ্ল্যাটের সামনে প্রচুর মানুষ জড়ো হয়েছে। পাশের ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তিনি হাতুড়ি দিয়ে লক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং টয়লেটের সামনে রক্ত দেখতে পান। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার আগে আসামিদের তিনি কখনো দেখেননি।
রামিসার মা পারভীন আক্তার জানান, ঘটনার সময় তিনি রান্না করছিলেন। রান্নার শেষ দিকে একটি চিৎকার শুনলেও ভেবেছিলেন পাশের বাসার কোনো শিশু হয়তো কাঁদছে। পরে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে ভবনের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার একটি জুতো পড়ে থাকতে দেখে তার সন্দেহ হয়। তিনি বারবার দরজা খোলার জন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দা স্বপ্নাকে অনুরোধ করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। পরে দরজা ভাঙা হলে ভেতরে রক্ত ও মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায়। পারভীন আক্তার আরও জানান, পরবর্তীতে অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তার উপস্থিত লোকজনের সামনে স্বীকার করেন যে, সোহেল রানা রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা করে পালিয়ে গেছে।
রামিসার চাচা মিজানুর রহমান লিটন ও চাচি জানান, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছোটেন। ঘরে ঢুকে তারা খাটের নিচে রামিসার বস্ত্রহীন ও মাথাবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। একটি বড় বালতির ভেতর শিশুটির মাথা রাখা ছিল এবং তার গলা ও হাত কাটা ছিল।
ভবনের বাসিন্দা মনির হোসেন ও প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজন জানান, রামিসার মায়ের চিৎকার শুনে তারা এগিয়ে আসেন। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর বাথরুমে রক্ত ও জামাকাপড় দেখতে পান। খাটের নিচে রামিসার মরদেহ এবং বালতিতে তার মাথা উদ্ধার করা হয়।
মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আবু সামা জানান, সকাল ১০টার দিকে নাস্তা করার সময় তিনি পাশের বাসার জানালা বেয়ে এক ব্যক্তিকে খালি গায়ে নিচে নামতে দেখেন। প্রথমে চোর ভাবলেও পরে মিডিয়ার ছবি দেখে তিনি নিশ্চিত হন যে, জানালা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিটিই মূলত মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা।
অন্যান্য সাক্ষীদের মধ্যে মনিরুজ্জামান শাহীন জানান, ঘটনাস্থলে তিনি একটি পাতলা ছুরি ও বালতিতে রামিসার মাথা দেখতে পান। এছাড়া পুলিশ সদস্য রুমা আক্তারও আদালতে এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। আদালতে উপস্থিত থেকে রামিসার চাচা মিজানুর রহমান লিটন অভিযুক্ত সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে শনাক্ত করেন। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, সাক্ষীদের এই জবানবন্দি মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।