বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলের নেতা-কর্মী ও দেশজুড়ে উদ্বেগের মধ্যেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সচল রাখার বার্তা দিয়েছে। প্রথম ধাপে ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণার ঠিক এক মাস পর, গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৬টি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বিএনপি।
দলের প্রধানের এমন উদ্বেগজনক শারীরিক অবস্থার সময়ে এই প্রার্থী ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ ও নির্বাচনী প্রচারের স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঠে সক্রিয় রাখতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই থেকে ১৩ দিন ধরে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে রাখা হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়। বরং নানা জটিলতা বেড়ে যাওয়ায় তাঁকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে তাঁর পরিবার ও দল। দলের প্রধানের এমন সঙ্কটময় অবস্থা দলের মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় এক ধরনের হতাশা সৃষ্টি করেছিল, যার ফলে অনেক স্থানেই প্রচার থমকে যায়।
এই পরিস্থিতিতেই দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে নিজেদের অনড় থাকার বার্তা দিল দলটি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমরা শুরু থেকেই নির্বাচন চেয়ে আসছি। আমরা নির্বাচন করব, নির্বাচন করতেই হবে। এটা আমাদের দায়িত্ব। সে লক্ষ্যে ৩৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি আসনগুলোতেও ঠিক সময়ে আমরা প্রার্থী দিয়ে দেব।”
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।