দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন শেষে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে সংবর্ধনা দিতে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিএনপি।
দলটি প্রত্যাশা করছে, সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ৫০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। বিএনপির শীর্ষ এই নেতাকে স্বাগত জানাতে মঙ্গলবার থেকেই ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন ৬৩ জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কুড়িল বিশ্বরোডসংলগ্ন তিনশ ফিটে প্রথমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তারেক রহমান। এরপর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন তিনি। পরে গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন তারেক রহমান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানেরও কাল দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এদিকে বিশেষ কার্যক্রম ও নিরাপত্তাজনিত কারণে আজ (বুধবার) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ছাড়া অন্য দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের আশঙ্কায় হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে যাত্রীদের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর অনুরোধ জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রায় ১৮ মাস কারান্তরীণ থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান।
তিনশ ফিটের সংবর্ধনাস্থল প্রস্তুত
তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দিতে রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় বিশাল মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্বরোডে পূর্বাচলমুখী ৩০০ ফিট সড়কের একটি অংশজুড়ে তৈরি করা হচ্ছে এই মঞ্চ। মঙ্গলবার দুপুরে সংবর্ধনা মঞ্চের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের পর বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সংবর্ধনায় মানুষের মহামিলন হবে। অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতি হবে বলে আশাবাদী।
তিনি আরও জানান, দেশে পৌঁছানোর পর তারেক রহমান প্রথমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।
ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী জানান, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকেও সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারও তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তরিক। দলীয়ভাবেও নেতাকর্মীরা তার নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন।নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনসমাগম যত বড়ই হোক, সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে হবে। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে প্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানাবেন। কোনো বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা করা যাবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার মাকে দেখে বাসায় পৌঁছানো পর্যন্ত সবাই শৃঙ্খলার সঙ্গে অবস্থান করবেন।
বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে রাজধানী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার-বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে রাজধানী। নেতাকর্মীরা নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ঝুলিয়েছেন ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও বিলবোর্ড। এতে বড় অক্ষরে লেখা-‘লিডার আসছে’, ‘হে বিজয়ী বীর, তোমাকে স্বাগত’ ইত্যাদি। রাজধানীর পল্টন, মৎস্যভবন মোড়, কাকরাইল, মোহাম্মদপুর, কাওরান বাজার, মহাখালী, গুলশান, উত্তরা, বনানী ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে লাগানো এসব ব্যানার-বিলবোর্ডে বড় আকারে শোভা পেয়েছে তারেক রহমানের ছবি।
স্বাগত মিছিল
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার রাজধানীতে স্বাগত মিছিল করেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (পিজি হাসপাতাল) বটতলা থেকে শুরু করে শাহবাগ মোড় হয়ে মৎস্যভবনে গিয়ে এই মিছিল শেষ হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।