ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মরদেহ আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আনা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে রওনা হয়ে সম্ভাব্য সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে মরদেহটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। এনসিপির স্বাস্থ্য সেলের প্রধান ডা. আব্দুল আহাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আগামীকাল শনিবার বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে শহীদ হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই বীর যোদ্ধার প্রতি সম্মান জানিয়ে শনিবার সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের সকল দায়িত্ব রাষ্ট্র বহন করবে।
শোক পালনের অংশ হিসেবে শনিবার দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। আজ শুক্রবার বাদ জুমা দেশব্যাপী সকল মসজিদ ও উপাসনালয়ে তার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার ডাক দেওয়া হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে এই দোয়ায় শরিক হওয়ার পাশাপাশি খুনিদের বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এছাড়া এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলমসহ বিএনপি, জামায়াত ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণানও তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন সীমান্ত দিয়ে পালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।