সরকার প্রান্তিক, নিম্ন-আয়ের ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে সুসংগঠিত সামাজিক সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১০ মার্চ ২০২৬। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শুরুতে মাত্র দুটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্পের পরিকল্পনা থাকলেও, পরে তা সম্প্রসারণ করে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা সভায় জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে সুসংগঠিতভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে। কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
কমিটিতে মোট ১৪ জন সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন—সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহদী আমিন, উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ,মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, অর্থসচিব, তথ্যসচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনা সচিব ও সমাজকল্যাণ সচিব।
উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক নির্বাচন করা হলেও, আর্থিক তথ্যের অভাবে নির্বাচিত ওয়ার্ডে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সুবিধাভোগী নির্ধারণ করা হবে। পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ হবে নিম্নোক্ত এলাকায়: বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা (রাজবাড়ী), পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), লামা (বান্দরবান),খালিশপুর, চরফ্যাশন (ভোলা), দিরাই (সুনামগঞ্জ), ভৈরব (কিশোরগঞ্জ), বগুড়া সদর, লালপুর (নাটোর), ঠাকুরগাঁও সদর, নবাগঞ্জ (ঢাকা)।
উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। অনুদানের অর্থ ব্যাংক অথবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (যেমন: বিকাশ, নগদ) এর মাধ্যমে সরাসরি বিতরণ করা হবে।
নারীরা খানা প্রধান হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তারা অন্য কোনো ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিদ্যমান সুবিধা অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।