২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ইউসুফের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আক্ষেপ করে বলেছেন, “আজিমপুর কবরস্থানে ১৪টি শহীদের কবরের মধ্যে ১৩টিই পাকা করা হয়েছে, কিন্তু আমার ছেলের কবরটি এখনো কাঁচা পড়ে আছে। প্রতি শুক্রবার জিয়ারত করতে গিয়ে এ দৃশ্য দেখে বুক ফেটে যায়।”
দুই বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও ছেলের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়ায় এমন কষ্টের কথা তুলে ধরেন তিনি। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন। শহীদ ইউসুফের মা অভিযোগ করেন, দ্বারে দ্বারে ঘুরেও শুধু অবহেলা, লাঞ্ছনা ও হুমকি পেয়েছেন।
তিনি বলেন, “কোথাও ঢুকতে দেয় না, গেট থেকেই ফিরিয়ে দেয়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়েছি, এখন প্রতিদিন মেরে ফেলার হুমকি আসে। ঠিকানা নেই, এলাকা ছাড়তে হয়েছে। ছোট ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারছি না। এর জন্যই কি আমার সন্তান জীবন দিয়েছিল?”
সংবাদ সম্মেলনে যাত্রাবাড়ীতে শহীদ শাওন তালুকদারের বাবাও কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছেলে শহীদ হওয়ার পর ২০২৬ সাল এসেছে, অথচ তার নাম এখনো শহীদের তালিকায় ওঠেনি। ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী মোড়ে তিন গুলি লেগে শহীদ হয়। জানুয়ারির ২১ তারিখে আজিমপুরে সব কাগজ জমা দিয়েছি, কিন্তু এখনো এমআইএস বা গেজেট হয়নি। শুধু বলা হয় প্রক্রিয়া বন্ধ।” পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ ও আহত সেলের সম্পাদক তামিম খান বলেন, সরকার শহীদ-আহতদের তালিকাকরণ ও সেবা নিশ্চিতের দায়িত্ব নিলেও তা সঠিকভাবে পালন করেনি। ঢাকা জেলায় ৩২৯ জন শহীদ ও প্রথম ধাপে ১,৪৮৫ জন আহতের তালিকা নিশ্চিত হলেও গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এমআইএস ও তালিকাকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
তামিম খান অভিযোগ করেন, অনেক আহতের ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেই পুলিশ সদস্যদের, যারা আন্দোলনে গুলি চালিয়েছিল। এটাকে তিনি চরম অমানবিক ও লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দ্রুত শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, গেজেট সম্পন্ন করা এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।