ইসরাইলি সেনাবাহিনী ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির। গত রাতে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে ক্রমবর্ধমান অভিযানের চাপ এবং তীব্র সৈন্য সংকটকে এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ইসরাইলের চ্যানেল ১৩ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে জেনারেল জামির বলেন যে তিনি তাদের সামনে ১০টি লাল পতাকা বা চূড়ান্ত বিপদের সংকেত তুলছেন। এই মুহূর্তে আইডিএফ বা ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য একটি নতুন সেনা নিয়োগ আইন, রিজার্ভ ডিউটি আইন এবং বাধ্যতামূলক সেনা সেবার মেয়াদ বাড়ানোর আইন করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় অচিরেই সেনাবাহিনী তার নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হবে এবং বর্তমান রিজার্ভ ব্যবস্থাও টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
সেনাপ্রধান হিসেবে জামিরের এই ধরনের হুঁশিয়ারি এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত জানুয়ারিতেও তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে লিখেছিলেন যে সৈন্য ঘাটতি খুব দ্রুতই সেনাবাহিনীর সার্বিক যুদ্ধ প্রস্তুতিকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।
গাজায় ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটির সামরিক নেতৃত্ব বারবার আইনপ্রণেতাদের জানিয়ে আসছে যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং বহুমুখী সামরিক চ্যালেঞ্জের কারণে সেনাবাহিনীতে বর্তমানে অন্তত ১২ হাজার সৈন্যের ঘাটতি রয়েছে।
এই সংকটের মধ্যেই ২০২৪ সালের জুনে ইসরাইলের সর্বোচ্চ আদালত একটি ঐতিহাসিক রায় দেন, যেখানে বলা হয় যে হারেদি বা অতি-রক্ষণশীল ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের দশকের পর দশক ধরে চলে আসা সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। আদালতের এই আদেশের পর থেকেই অতি-রক্ষণশীল ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের তরুণদের সেনাবাহিনীর বাইরে রাখতে নতুন করে আইন প্রণয়নের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। বর্তমানে দেশটিতে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৮০ হাজার হারেদি পুরুষ সামরিক সেবা দেওয়ার যোগ্য হলেও তারা এখনো সেনাবাহিনীতে যোগ দেননি, যা এই সৈন্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
সূত্র- টাইমস অফ ইসরাইল
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।