সকল মেনু

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে একটি যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ‘প্রায় চূড়ান্তভাবে আলোচিত হয়েছে’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের পর তিনি এই ঘোষণা দেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

চুক্তির প্রধান শর্ত ও প্রণালি উন্মুক্তকরণ

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, এই সম্ভাব্য চুক্তির একটি বড় অংশ জুড়ে থাকবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়টি। তবে চুক্তিটি এখনো ‘চূড়ান্ত অনুমোদনের’ অপেক্ষায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচক দল এবং মধ্যস্থতাকারী ‘অন্যান্য দেশ’ মিলে এই অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ

এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির রূপরেখা তৈরিতে ট্রাম্প আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে ব্যাপক যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তিনি কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, জর্ডান, মিশর, তুরস্ক ও বাহরাইনের নেতৃবৃন্দ এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। এর পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তিনি আলাদাভাবে কথা বলেছেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন:

“চুক্তির চূড়ান্ত দিকগুলো ও বিস্তারিত বিষয় নিয়ে এখন আলোচনা করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।”

হামলার প্রস্তুতি স্থগিত ও পাকিস্তানের ভূমিকা

চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ইরানে হামলা পুনরায় শুরু করার একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েও তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে তা সাময়িকভাবে ‘স্থগিত’ করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বিবৃতিটি এমন একটি সময়ে এলো, যখন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির তার ইরান সফর শেষ করেছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরটি ‘সংক্ষিপ্ত হলেও অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ ছিল।

তেহরানের সতর্কতা

অন্য দিকে, তেহরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই আলোচনায় যাওয়ার বিষয়ে এখনো বেশ সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছেন। ইরানের অভিযোগ, এর আগে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময়ই যুক্তরাষ্ট্র দু-দুবার ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছিল। যার ফলে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি তাদের এক ধরণের আস্থার সংকট রয়েছে।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

×