ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি আরও বাড়াতে উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রস্তাব করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার তিনি কংগ্রেসের কাছে প্রতিরক্ষা খাতে ৪২ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছেন, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব।
প্রস্তাব অনুসারে, পেন্টাগনের জন্য প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার (দেড় লক্ষ কোটি ডলার) বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউস বলছে, এই বাজেট ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাজানো হয়েছে এবং মার্কিন সামরিক শক্তিকে পুনর্গঠন করবে। এই রেকর্ড সামরিক ব্যয়ের অর্থ জোগাতে ট্রাম্প আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে ১০ শতাংশ বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা যুদ্ধ করছি। এই মুহূর্তে ডে-কেয়ার কেন্দ্রগুলোর দেখভাল করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”রিপাবলিকানরা এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও ডেমোক্র্যাটরা একে ‘চরমপন্থী’ বলে সমালোচনা করেছেন। হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, এই বাজেট আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন। আমেরিকান প্রগ্রেসের ফেডারেল বাজেট পলিসি পরিচালক ববি কোগান বলেন, “এই প্রস্তাব আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। সাধারণ মানুষের আবাসন ও স্বাস্থ্য সহায়তা কমিয়ে সামরিক খাতে টাকা ঢালা অত্যন্ত চরমপন্থী সিদ্ধান্ত।”
প্রেসিডেন্টের এই বাজেট প্রস্তাবটি এখন কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটিতে পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। সেখানে এটি পাস হওয়া নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।