মহা-সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শত্রুপক্ষ যদি ইরানের মাটিতে কোনো ধরনের স্থল অভিযান চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তাহলে একজন আক্রমণকারীকেও জীবিত ফিরতে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশের সব কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারের সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক অনলাইন ভাষণে তিনি এই ‘নো কোয়ার্টার’ নীতি ঘোষণা করেন। মেজর জেনারেল হাতামি স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন, শত্রুর প্রতিটি পদক্ষেপ যেন তারা প্রতি মুহূর্তে বিশ্লেষণ করে। তিনি বলেন, ইরানি সেনাবাহিনী রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক উভয় ক্ষেত্রেই পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের লক্ষ্য দেশ থেকে যুদ্ধের কালো মেঘ সরিয়ে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন হাতামি। ট্রাম্প যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানকে নতুন করে সাজানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। হাতামি বলেন, এ ধরনের বক্তব্যই প্রমাণ করে যে মার্কিন-ইসরাইলি জোটের আসল উদ্দেশ্য ইরানের নাম ও অস্তিত্ব মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা। তবে ইরানের জনগণ ও সেনাবাহিনী এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না।
সেনাপ্রধান জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘সবকিছু ইরানের জন্য’—এই নীতিতে অটল থেকে চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনী লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানিরা অনিরাপদ থাকলে শত্রুপক্ষকেও কোথাও নিরাপদ থাকতে দেওয়া হবে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই ‘মরো অথবা মারো’ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে একটি রক্তক্ষয়ী স্থলযুদ্ধ শুরু হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই এবং কয়েকজন সিনিয়র সামরিক কমান্ডারকে হত্যার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এর জবাবে ইরানও শত শত মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে ইসরাইল এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।