মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ইসফাহান শহরে ঘটে যাওয়া ব্যাপক বিস্ফোরণের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) ভোরের দিকে এই ঘটনা ঘটে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর বিশাল আগুনের লেলিহান শিখা রাতের আকাশকে কমলা রঙে আলোকিত করে তুলেছে। ট্রাম্প ভিডিওটি শেয়ার করলেও এর সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ফুটেজ, যা ইসফাহানের একটি বড় অস্ত্রাগার বা গোলাবারুদ ডিপোতে চালানো হয়েছে। প্রায় ২৩ লাখ জনসংখ্যার এই শহরে বদর সামরিক বিমানঘাঁটিও রয়েছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, তারা ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইসফাহানের ওই ডিপোতে যুক্তরাষ্ট্র ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।
কর্মকর্তা বলেন, এই হামলায় বিপুল সংখ্যক ভেদকারী বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে একের পর এক শক্তিশালী দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে, যা বিশাল আগুনের গোলা ও শকওয়েভ তৈরি করে এলাকা কাঁপিয়ে দেয়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের প্রায় ৫৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ইসফাহানের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে নিতে পারে।
হামলার একদিন আগে সোমবার (৩০ মার্চ) ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে ইরানের জ্বালানি খাত, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, এমনকি পারমাণবিক স্থাপনা ও পানির সরবরাহ ব্যবস্থাও ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার অভিযোগ করে আসছেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। তবে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি।এর আগেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, গত বছরের হামলায় তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।