সকল মেনু

ইরানের জ্বালানি তেল ও খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাই: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রকাশ্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং এর জন্য দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “তেল নেওয়াই আমার সবচেয়ে পছন্দের বিষয়”। তিনি এই পদক্ষেপের সমালোচকদের ‘বোকা’ বলে অভিহিত করেন। খারগ দ্বীপ নিয়ে তিনি বলেন, “হয়তো আমরা খারগ দ্বীপ নেব, হয়তো নেব না। আমাদের অনেক অপশন রয়েছে।” তবে তিনি স্বীকার করেন যে দ্বীপটি দখল করলে সেখানে মার্কিন বাহিনীকে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করতে হতে পারে।

ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, খারগ দ্বীপে ইরানের কার্যকর কোনো প্রতিরক্ষা নেই এবং মার্কিন বাহিনী সেটি “খুব সহজেই” দখল করতে সক্ষম। তিনি এই কৌশলকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সেখানে মার্কিন বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যায় এবং দেশটির তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালায়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খারগ দ্বীপ দখল করা গেলে ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ বন্ধ হয়ে যাবে, যা তেহরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দিতে পারে। তবে এ ধরনের স্থল অভিযান বা দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ‘তেল দখল’ নীতি নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আল জাজিরা ও বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের হাতে একাধিক সামরিক ও অর্থনৈতিক বিকল্প রয়েছে, তবে খারগ দ্বীপের মতো সুরক্ষিত এলাকায় স্থল অভিযানের নিরাপত্তা নিয়ে সমর বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

×