ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনার অগ্রগতিতে তিনি মোটেই সন্তুষ্ট নন। তিনি জানান, ইরান তার দেওয়া শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি নয়, যা খুবই অসন্তোষজনক। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যে এই মন্তব্য যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, “ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না—এটা নিশ্চিত করা হবে। আমরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি, তবে তারা আমাদের যা চাই তা দিতে চায় না।” যুদ্ধের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধে সবসময় ঝুঁকি থাকে। আমাদের সেনাবাহিনী বিশ্বের সেরা। আমি তাদের ব্যবহার করতে চাই না, কিন্তু কখনো কখনো প্রয়োজন হয়ে পড়ে।”
এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলা হলেও তা ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে পরিণত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছে। কূটনীতিকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, তবে সবকিছু নির্ভর করছে ইরানের আচরণের ওপর।
ভ্যান্সের মতে, যদি হামলা হয়, তাহলে তার প্রধান লক্ষ্য হবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা—বছরের পর বছর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নয়। ইরানের সঙ্গে এই উত্তেজনার মধ্যেই আগামী সোমবার (২ মার্চ) ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তার সফরের কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইলে অবস্থানরত মার্কিন দূতাবাসের জরুরি নয় এমন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াশিংটনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। জেনেভায় ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সূত্র : এবিসি নিউজ
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।