ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ‘“উপযুক্ত সময় এলে” দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি তার জন্য একটি মিশন। তিনি ভেনেজুয়েলাকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে চান এবং বিশ্বাস করেন যে যথাসময়ে তিনি নির্বাচিত হবেন এবং দেশের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার মাচাদো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং নিজের পাওয়া নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক তাকে উপহার দেন। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই উপহার দেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দেশ থেকে তুলে নিয়ে নিউ ইয়র্কে মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করেছে। এরপরও ট্রাম্প মাচাদোকে নতুন নেতা হিসেবে ‘বেছে নেননি’। তিনি বলেছেন যে মাচাদোর দেশের ভেতর পর্যাপ্ত জনসমর্থন নেই। তার বদলে ট্রাম্প অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করতেই বেশি আগ্রহী। মাদুরো আমলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি শুক্রবার সিআইএ পরিচালকের সঙ্গে দুই ঘণ্টার বৈঠক করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও যোগাযোগ বাড়ানো, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ খোঁজা এবং ভেনেজুয়েলা যেন আমেরিকার প্রতিপক্ষদের নিরাপদ আশ্রয় না হয় তা নিশ্চিত করা।
কেন মাচাদোকে বাদ দিয়ে ডেলসির সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প শুক্রবার বলেন, তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি স্মরণ করেন যে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর পুরো প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, যার ফলে নিরাপত্তা ভেঙে পড়ে এবং পরে আইএসআইএসের উত্থান ঘটে।
ট্রাম্প বলেন, সেই ভুল তিনি ভেনেজুয়েলায় পুনরাবৃত্তি করতে চান না।ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে মাচাদো বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ভেনেজুয়েলায় নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটবে। এই স্থিতিশীল পরিবর্তনের ফলে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গর্বিত ও নির্ভরযোগ্য মিত্র হয়ে উঠবে—যেমনটি আমেরিকা এ অঞ্চলে আর কখনো পায়নি।
এদিকে কারাকাসে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ তার প্রথম ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে বলেন, তিনি রাজনৈতিক সংলাপ ও কূটনৈতিক পথে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হতে একেবারেই ভীত নন। তিনি দেশের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার কথা বলেন এবং তেল খাতে সংস্কারের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ঘোষণা দেন—যা মাদুরো আমলের নীতি থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতি বলে অনেকে মনে করছেন।
বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প ডেলসিকে ‘চমৎকার মানুষ’ বলে আখ্যা দেন এবং ডেলসিও ওই কথোপকথনকে ‘ফলপ্রসূ ও শালীন’ বলে বর্ণনা করেন। পরদিনই ট্রাম্প মাচাদোকে ‘অসাধারণ নারী’ বলে প্রশংসা করেন এবং তার দেওয়া নোবেল পদককে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চমৎকার নিদর্শন’ বলে উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।