ইরানের প্রভাবশালী চিন্তাবিদ ও সুপ্রিম কাউন্সিল অব দ্য কালচারাল রেভল্যুশনের সদস্য হাসান রহিমপুর আজঘাদি বলেছেন, ইরানে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গ্রেপ্তার করা উচিত—ঠিক যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) তিনি আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “ট্রাম্পের এই অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের ভেতরে তার সব অঙ্গরাজ্য ও শহরে যেকোনো ধরনের অভিযান—এমনকি ধ্বংসাত্মক অভিযানও—বৈধ বলে বিবেচিত হতে পারে। ঠিক যেভাবে তারা অন্য দেশে এসব করে থাকে… মার্কিন কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে।”এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে যখন ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার মূল্যহ্রাসের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে (যা ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হয়ে ১২ দিন ধরে অব্যাহত), এবং ট্রাম্প প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করলে যুক্তরাষ্ট্র “তাদের উদ্ধারে” এগিয়ে আসবে।
প্রসঙ্গত, ৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী এক অভিযানে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়, যেখানে তিনি মাদক পাচারসহ অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি। ট্রাম্প এ অভিযানকে “সফল” বলে দাবি করেছেন এবং ভেনেজুয়েলায় অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন।
এ ঘটনা ইরানসহ বিশ্বের অনেক দেশে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, এবং ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে “অবৈধ অপহরণ” ও “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ” বলে নিন্দা করা হয়েছে।
আজঘাদির এই বক্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ করে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা চলছে এবং সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনি বিক্ষোভকারীদের “ভাঙচুরকারী” বলে অভিহিত করেছেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।