যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে দুর্নীতিবিরোধী ঝড়ের মুখে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর প্রভাবশালী চিফ অব স্টাফ এবং শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী আন্দ্রি ইয়ারমাককে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থা তাঁর বাসভবনে অভিযান চালানোর পরই গতকাল, শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেন জেলেনস্কি।
ব্যাহত হলো শান্তি আলোচনা:
৫৪ বছর বয়সী ইয়ারমাকের অপসারণ ইউক্রেনীয় কূটনীতির ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ইয়ারমাকের। কিন্তু তাঁর অপসারিত হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে বলে এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন ইয়ারমাকের পরিবর্তে ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি রুস্তেম উমেরভ আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন।
বিরোধিতা ও কেলেঙ্কারি:
যদিও ইয়ারমাককে সরানোর জন্য বিরোধী দলগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপ ছিল, তবুও গত সপ্তাহেই জেলেনস্কি তাঁকে শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। ইয়ারমাক একটি কৌশলগত জ্বালানি খাতে ১০ কোটি ডলারের ঘুষ কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত। চলতি মাসের শুরুর দিকে তদন্তকারীরা এই তথ্য উন্মোচন করেন।
এই কেলেঙ্কারি জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে, বিশেষত যখন রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালিয়ে বহু এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে ‘রিসেট’:
এই পরিস্থিতির মুখে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি একটি ভিডিও বার্তায় ঘোষণা দেন যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে (রিসেট)। তিনি জানান, কার্যালয়ের প্রধান আন্দ্রি ইয়ারমাক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই জেলেনস্কি তাঁকে ‘বরখাস্ত করার’ অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেন।
জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা (এনএবিইউ) এবং বিশেষায়িত দুর্নীতিবিরোধী প্রসিকিউটর অফিস (এসপিও) তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা করার কথা বলেছেন ইয়ারমাক। জেলেনস্কি আজ, শনিবার নতুন চিফ অব স্টাফ নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করবেন এবং দেশের এই সংকটের মুখে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।