১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিধ্বস্ত হওয়া নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বাড়লা গ্রাম আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে এবং নতুন প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বাড়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। কিন্তু দীর্ঘ ৫৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়টির মাঠ ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ইতিহাসের প্রেক্ষাপট:
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাড়লা গ্রামটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুদ্ধ শেষে শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের কথা বিবেচনা করে পাইকুড়া ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট সমাজসেবক অ্যাডভোকেট মরহুম নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া উদ্যোগ নেন। তিনি প্রথমে নিজ বাড়িতে বিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয় এবং বর্তমানে এটি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।
বর্তমান সমস্যা ও সংকট:
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভবনটি দৃষ্টিনন্দন হলেও সামনের বড় খেলার মাঠটি নিচু হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া সীমানা প্রাচীর না থাকায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং গবাদিপশুর অবাধ বিচরণে মাঠের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প ও জরুরি দাবি:
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পত্রে (স্মারক নং: ৩৭.০০.০০০০.০০১.৯৯.০২.২০২৪-৩৪২) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, জরাজীর্ণ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং মাঠ সংস্কারের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা আহ্বানের কথা উল্লেখ রয়েছে।
এই প্রকল্পের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাড়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও মাঠ ভরাট জরুরি ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব রফিকুল ইসলাম হিলালী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ডিও লেটার প্রদান এবং দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।