সকল মেনু

নেত্রকোনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নেত্রকোনার আটপাড়ায় একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের নীলকণ্ঠপুর গ্রামে অবস্থিত ‘সেরা চ্যালেঞ্জার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সোসিও-ইকোনমিক এন্ড রুরাল এ্যাডভান্সমেন্ট এসোসিয়েশন’ (সেরা-SERAA) দ্বারা পরিচালিত।

কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে জোরপূর্বক গাছগুলো কেটে নেওয়া হয়েছে।

ছুটির সুযোগে গাছ নিধন

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২১ মে ২০২৬ তারিখে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর টানা দুই দিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। এই ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে নীলকণ্ঠপুর গ্রামের মৃত শহর আলী ফকিরের ছেলে আহমেদ হোসেন বিদ্যালয় মাঠে থাকা জাম, অর্জুন ও শীল কড়ইসহ বিভিন্ন মূল্যবান প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যান।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, “বিদ্যালয় খোলার পর গাছ কাটার বিষয়ে আহমেদ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি দাবি করেন— ওই জায়গা ও গাছ তার নিজস্ব সম্পত্তি, তাই তিনি কেটেছেন। অথচ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই গাছগুলো বিদ্যালয়ের সম্পত্তি হিসেবেই রক্ষিত ও পরিচর্যা হয়ে আসছিল।”

শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা

উন্নয়ন সংস্থা ‘সেরা’-র নির্বাহী পরিচালক এস এম মজিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ের ছায়াঘেরা পরিবেশ থেকে এভাবে গাছ কেটে নেওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিকভাবে এই কাজটি করা হয়েছে। গাছ চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষ সরাসরি প্রতিবাদ করতে দ্বিধাবোধ করছেন। এর ফলে উন্নয়ন সংস্থাটির সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কোমলমতি শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন এলাকার সচেতন মহল। অতি দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাসিন্দা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

×