গোলরক্ষকদের বীরত্বে গ্রুপ ‘এইচ’ এখন রোমাঞ্চের চূড়ায়। সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়েকে আটকে দিয়ে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন দুই গোলপোস্টের নিচে থাকা অতন্দ্র প্রহরীরা। একদিকে কেপ ভার্দের দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন ভোজিনিয়া, অন্যদিকে উরুগুয়ের জয় কেড়ে নিয়েছেন সৌদি আরবের মোহাম্মদ আল-ওয়াইস।
আগের ম্যাচে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে প্রথম চমকটা দেখিয়েছিল কেপ ভার্দে। সেই ম্যাচের নায়ক ছিলেন ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। বয়সের হিসেবে রেকর্ড গড়ে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে ৪০ বা তার বেশি বয়সী কোনো গোলরক্ষক হিসেবে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭টি সেইভ করার কীর্তি গড়েন তিনি।
ভোজিনিয়ার দেখানো পথেই যেন হাঁটলেন সৌদি আরবের মোহাম্মদ আল-ওয়াইস। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে রীতিমতো বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন তিনি। পুরো ম্যাচে উরুগুয়ের নিশ্চিত ৯টি গোলমুখী আক্রমণ নসাৎ করে দেন আল-ওয়াইস। বিবিসির তথ্যমতে, বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে কোনো গোলরক্ষক এক ম্যাচে এত বেশি সেইভ করতে পারেননি। তার এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের দিনে উরুগুয়ের বিপক্ষে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল সৌদি আরব। ম্যাচের শুরুতেই হাসান আল তামবাক্তির দুর্দান্ত এক হেড উরুগুয়ের গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে, ফিরতি বলে আব্দুলেলাহ আল আমরি গোল করে সৌদি আরবকে অবিশ্বাস্য এক লিড এনে দেন।
এক গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর মরিয়া হয়ে আক্রমণের ঝড় তোলে উরুগুয়ে। তবে সৌদি রক্ষণভাগ এবং আল-ওয়াইসের প্রাচীর ভাঙা অসম্ভব হয়ে উঠছিল। অবশেষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এসে স্বস্তির গোল পায় সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাক্সি আরাউজোর এক জোরালো শট সৌদি জাল স্পর্শ করলে ১-১ গোলের ড্রয়ে মাঠ ছাড়ে দুদল। হার এড়াতে পেরে উরুগুয়ে স্বস্তির ১ পয়েন্ট পেলেও ম্যাচজুড়ে দাপট ছিল সৌদি আরবেরই।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘এইচ’-এর পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত। প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষে গ্রুপের চার দল—স্পেন, কেপ ভার্দে, উরুগুয়ে এবং সৌদি আরব—সবারই সংগ্রহ এখন সমান ১ পয়েন্ট। ফলে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার লড়াই এখন আরও অনিশ্চিত ও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।