সম্প্রতি বিরিয়ানি সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একটি স্ট্যান্ডআপ কমেডি শোতে এক নারী চিকিৎসকের মন্তব্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কমেডিয়ান প্রণিত মোরের একটি শোতে দর্শকদের সাথে কথোপকথনের সময় করা ওই মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের ঝড় বইছে।
সামাজিক মাধ্যমে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করা ওই নারীর নাম সেজল পাওয়ার। অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট করার আগে তার ইনস্টাগ্রাম বায়ো থেকে জানা গেছে, তিনি মুম্বাইয়ের কেইএম হাসপাতালে কর্মরত আছেন।
যে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক: অনুষ্ঠান চলাকালীন কমেডিয়ান প্রণিত মোর দর্শক সারিতে থাকা সেজল পাওয়ারকে প্রশ্ন করেন— মরদেহের ময়নাতদন্ত বা ব্যবচ্ছেদের সময় চিকিৎসকেরা কি গম্ভীর থাকেন, নাকি রসিকতাও করেন? এই প্রশ্নের জবাবে সেজল পাওয়ার তাঁর অ্যানাটমি ক্লাসের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। তিনি দাবি করেন, মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা পুরুষ লাশের গোপনাঙ্গের আকারের তুলনা করতেন।
সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা: ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসকদের একটি বড় অংশও এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সমালোচকদের মতে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার জন্য দেহদানকারীদের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু স্ট্যান্ডআপ শোর মতো জায়গায় মৃত মানুষের শরীর নিয়ে এমন চটুল মন্তব্য করা চরম অশ্রদ্ধা এবং সংবেদনশীলতার অভাবকে প্রকাশ করে।
একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “একজন হবু চিকিৎসক হিসেবে মৃতদেহ নিয়ে এভাবে উপহাস করা সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজগুলোর একটি। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
আইনি ও নৈতিক মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন: এই ঘটনার পর অনলাইনে নতুন একটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এর আগে একই ধরনের বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্য করার দায়ে ‘হিসানশু জানগরা’ নামের এক পুরুষ চিকিৎসককে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তাহলে এই নারী চিকিৎসকের ক্ষেত্রেও কি একই কঠোর আইনি ও নৈতিক মানদণ্ড প্রযোজ্য হবে? নাকি লিঙ্গভেদে এখানে ছাড় দেওয়া হবে?
চিকিৎসক ও কমেডিয়ানের প্রতিক্রিয়া: বিতর্ক ও সমালোচনা দেয়ালে ঠেকলে সেজল পাওয়ার তাঁর ইনস্টাগ্রামে একটি ক্ষমাপ্রার্থনামূলক পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আমি এখানে কোনো ব্যাখ্যা দিতে বা নিজের কাজকে জাস্টিফাই করতে আসিনি। যা বলেছি তার সম্পূর্ণ দায় আমি নিচ্ছি। এখন ফিরে তাকালে বুঝতে পারছি, আমার কথাগুলো ভিন্নভাবে নেওয়ার সুযোগ ছিল এবং তা অনুচিত হয়েছে।” তবে এই পোস্ট দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি প্রাইভেট করে নেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনার কেন্দ্রে থাকা কমেডিয়ান প্রণিত মোরও নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন। শো-র নামে দর্শকদের কাছ থেকে জোর করে এমন সস্তা ও আপত্তিকর মন্তব্য বের করে নেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সমালোচিত হচ্ছিলেন। এই ঘটনার পর তীব্র ট্রোলের মুখে পড়ে তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।