সকল মেনু

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীদের মতো: জামায়াতে ইসলাম

সীমান্ত হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীদের বক্তব্যের মতোই শোনাচ্ছে। সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ভিনদেশের স্বার্থ চরিতার্থ করছে। বুধবার রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্ত ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে প্রতিবেশীর মতো আচরণ করছে না। কোনো দেশের মানুষকে সীমান্তে সরাসরি গুলি করে হত্যার বিধান নেই এবং এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অর্ধশতাধিক পুশইনের ঘটনা ঘটেছে এবং দেড় হাজারেরও বেশিবার পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং দেশপ্রেমিক জনগণের যৌথ ভূমিকার কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি সরকারকে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে ভিনদেশের স্বার্থ চরিতার্থ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে কোনো মূল্যে পুশইন প্রতিহত করা হবে।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই জামায়াত নেতা জানান, গত তিন মাসে সারা দেশে মোট ফৌজদারি মামলার সংখ্যা একান্ন হাজার ছাড়িয়েছে। বিএনপি এরই মধ্যে নিজেদের দলের আঠারো জন নেতা কর্মীকে খুন করেছে এবং জামায়াতেরও চার জনকে খুন করা হয়েছে। আর সরকারের নীরবতাই প্রমাণ করে তারা এসব ঘটনার মদতদাতা। সরকারের একশত দিনের কার্যক্রমের সমালোচনা করে হামিদুর রহমান বলেন, এই সরকারের একশত দিনের দেশ পরিচালনায় জনগণের অধিকার, নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

সরকার এখন অতীতের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে এবং এই সরকার যে আসলে কোনো সংস্কার চায় না, তা ধাপে ধাপে প্রমাণিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বারো ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জাতির সংস্কারের যে প্রত্যাশা ছিল, তা সম্পূর্ণ বিনষ্ট করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপির কেউ কেউ জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ হতে দেয়নি। বিএনপি জনগণের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কারের শপথ লঙ্ঘন করেছে, অথচ বিরোধী দল হিসেবে তারা দুটি শপথই রক্ষা করেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সীমান্ত সংক্রান্ত বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখায় পুশইনের শিকার মানুষেরা বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং সেখানে সরকারের ভূমিকা একেবারেই অপ্রতুল। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই নতজানু ভূমিকা থেকে সরে এসে দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তিনি ড. জাহেদের বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন এবং পুশইন মোকাবিলায় সরকারকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্তে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই পরিস্থিতি ও সীমান্ত আগ্রাসনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী বারো জুন দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবাদ সভা করবে ১১ দলীয় জোট। এরপর পনেরো জুন একযোগে চট্টগ্রামে সমাবেশ এবং রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে এই জোট। সংসদে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রাজপথেও তাদের তৃতীয় ধাপের এই আন্দোলন চলমান থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

×