কোনো বোল্ড বা লিস্ট ব্যবহার না করে পুরো খবরটি সহজ ও সাবলীল ভাষায় রিরাইট করে দেওয়া হলো:
ব্যভিচারের মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দেওয়ার রায়ের বিপক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাদীপক্ষ। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এই রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে আসামিপক্ষ বিভিন্নভাবে প্রচার করছিল যে এই রায়ে তারা খালাস পেতে যাচ্ছেন। তবুও আইনের প্রতি আস্থা নিয়ে তারা মামলাটি চালিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মামলার বাদী বিভিন্ন সময়ে তাকে আর্থিক সংকটের কথা জানালেও তিনি ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়ে মামলা লড়েছেন। পিবিআই দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবে যদি ব্যভিচার ও জালিয়াতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তবে তা বাদীর সঙ্গে চরম অন্যায়ের শামিল হবে।
আজ রায় ঘোষণার আগে নাসির ও তামিমা বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৫ নম্বর কোর্টে হাজির হন। রায় ঘোষণা শেষে পুলিশি পাহারায় তাদের নিরাপত্তার জন্য আদালতের ভেতরের হাজতখানায় নিয়ে কিছুক্ষণ রাখা হয়। পরবর্তীতে তারা সেখান থেকে নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু এবং মামলার বাদী রাকিব হাসান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৬ মে বাদী ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করা হয়েছিল। ওই দিন আদালতে বাদী রাকিবের পক্ষে আইনজীবী ইসরাত হাসান এবং নাসিরের পক্ষে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও তামিমার পক্ষে আইনজীবী মোসলেহ উদ্দিন জসীম যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানিতে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে প্রার্থনা করে বাদীপক্ষ, অন্যদিকে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন জানান আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও বাদী রাকিবের বিয়ে হয় এবং তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। কিন্তু রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক আইনিভাবে বিচ্ছেদ না করেই ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেন বিয়ে করেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরপরই একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেন।
অবশ্য নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইন অনুযায়ী শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন, যেখানে নাসির, তামিমা ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিলেও তামিমার মাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আসামিপক্ষের রিভিশন আবেদন খারিজ হয়ে গেলে ২০২৩ সালের ২০ মার্চ এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট দশ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। গত এপ্রিলে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের মার্চে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয় এবং তামিমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আজ ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দেন বিচারক।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।