মাদারীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা খাবার সরবরাহের মামলায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই অপারেশন কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. এলিয়াম হোসেন এই আদেশ দেন। এর আগে সোমবার রাতে শহরের চাঁনমারি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন গফরগাঁও উপজেলার দোগাছিয়া গ্রামের আহসানুল হাবিব এবং বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার নুরুজ্জামান খান।
জানা গেছে, মাদারীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের টিফিন হিসেবে বিনামূল্যে রুটি, কলা ও ডিম দিয়ে আসছে সরকার। সমতা ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই খাবারগুলো বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গত আট এপ্রিল দুপুরে সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই টিফিন খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবার রিপন ঘটনাস্থলে গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া রুটি, কলা ও ডিম আলামত হিসেবে জব্দ করেন। ঘটনার পরদিন জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল আহম্মেদকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনার সত্যতা খুঁজে পান।
এই নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে ফিডিং কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক তথা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হারুন অর রশীদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর গত সাতাশ এপ্রিল সদর উপজেলার পোকরার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন চৌধুরী বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সমতা ট্রেডার্স নামের প্রতিষ্ঠানের ওই দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা খাবার সরবরাহের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের ধরতেও পুলিশ কাজ করছে। এদিকে গ্রেফতার হওয়া দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নষ্ট খাবার সরবরাহের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।