নেত্রকোনা পৌর শহরের বড়বাজার এলাকা থেকে মোঃ কারিম (২২) নামের এক সন্দেহভাজন যুবককে আটক করেছে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (৮ জুন) রাত ১০টার দিকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক মিয়ানমারের নাগরিক বা ‘রোহিঙ্গা’ হতে পারেন বলে জোরালো ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৬ জুন) ‘সোনার তরী’ পরিবহনের একটি বাসে করে চট্টগ্রাম থেকে নেত্রকোনায় আসেন কারিম। এরপর থেকে তিনি শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সোমবার রাতে বড়বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকানে তার কথাবার্তা ও চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে সৌদি আরবের একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং চট্টগ্রাম-নেত্রকোনা রুটের বাসের টিকিট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে ভুয়া নাম-ঠিকানা ও পরিবার ব্যবহার করে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন এবং পাসপোর্ট তৈরির উদ্দেশ্যে নেত্রকোনায় এসেছিলেন কারিম। তার মূল লক্ষ্য ছিল, যেকোনো উপায়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট হাতিয়ে নিয়ে পুনরায় সৌদি আরবে পাড়ি জমানো। তবে এই জালিয়াতির সাথে জড়িত স্থানীয় দালাল চক্রের কোনো সদস্যের নাম-ঠিকানা এখনো উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে আটক মোঃ কারিম নিজের পরিচয় নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবেগঘন বয়ান দিয়েছেন। তার কাছে কোনো বৈধ পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নেই স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমার মা রোকিয়া সৌদি আরবে মারা গেছেন, বাবার নাম রফি। মায়ের বাড়ি চট্টগ্রামে ছিল বলে জানি। তবে বাংলাদেশের আত্মীয়-স্বজনদের তেমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই। আমি মূলত নিজের শিকড় ও পরিবারের সন্ধানে বাংলাদেশে এসেছি।”
তিনি আরও দাবি করেন, সৌদি আরবে তাকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তবে তিনি কখনো মিয়ানমারে যাননি। নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়া এবং বৈধভাবে বেঁচে থাকাই তার একমাত্র আশা—এ কথা বলতে বলতে তিনি পুলিশের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার জানান, “আটক যুবককে থানায় এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্য ও উদ্ধারকৃত নথিপত্র পর্যালোচনা করে আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি যে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি একজন রোহিঙ্গা। তার প্রকৃত পরিচয় বের করা এবং তাকে সহায়তাকারী স্থানীয় দালাল চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে। যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সৌদি আরবের ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী এই যুবকের পরিচয় এবং নেত্রকোনায় পাসপোর্ট জালিয়াতি চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।