সকল মেনু

আজাদ কাশ্মীরে পুলিশ-বিক্ষোভকারী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত অন্তত ৬

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ কাশ্মীরের রাওয়ালাকোটে সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। আজাদ কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিদর্শক লিয়াকত আলী মালিকের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম দ্য ডন।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার রাতে বিক্ষোভকারীরা রাওয়ালাকোটের কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে হামলা চালালে ওই পুলিশ সদস্যরা নিহত হন। পুলিশের দাবি, নিহতদের আগ্নেয়াস্ত্র ও শটগানের গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসন এই ঘটনাকে সরাসরি সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করে জননিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষায় কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। তবে পুরো অঞ্চলে মোবাইল ডাটা সেবা বন্ধ থাকায় প্রকৃত তথ্যপ্রবাহ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয়দের আশঙ্কা, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার রাতে, যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। শনিবার তার জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও ময়নাতদন্তের জন্য তা স্থগিত করে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্ত না হওয়ায় হাসপাতালের বাইরে শত শত মানুষ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দাঙ্গা পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে জবাবে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে।

এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালের সামনে চলমান এই অবস্থান কর্মসূচির কারণে রোগী, স্বজন ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি হচ্ছিল। বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও তারা তা মানেননি। এদিকে নিহত ব্যবসায়ীর পরিবার ঘোষণা দিয়েছে, সরকার যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে দেওয়া নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা মরদেহ দাফন করবে না। পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, তাদের ছেলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হওয়ার মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তাই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা এই সিদ্ধান্তেই অটল থাকবেন।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

×