নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের বীরগঞ্জ বাজারের মোটরসাইকেল যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী মো. বিল্লাল হোসেন গত সাত দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে দ্রুত উদ্ধার ও ঘটনার রহস্য উন্মোচনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। মানববন্ধন চলাকালে সেখানে এক অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ বিল্লাল হোসেন দলপা ইউনিয়নের ভূঁইয়াপাড়া গ্রামের জামাল উদ্দিন ও ফুলেমা খাতুন দম্পতির ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বীরগঞ্জ বাজারে মেকানিক হিসেবে ব্যবসা করে আসছেন। এর আগে জীবিকার তাগিদে তিনি সৌদি আরবেও কর্মরত ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে দিনগত রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার পর থেকে বিল্লাল হোসেনকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখেন দোকান খোলা এবং ভেতরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল ও দোকানের চাবি পড়ে আছে। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না মেলায়, ওইদিন কেন্দুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
শনিবার দুপুরে দলপা ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে বীরগঞ্জ বাজারে আয়োজিত মানববন্ধনে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর সন্ধান দাবি করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী মনি আক্তার, তাদের তিন সন্তান বৃষ্টি, সাথী ও রিফাত, বিল্লাল হোসেনের বৃদ্ধ বাবা-মাসহ এলাকার শত শত মানুষ। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, নিখোঁজের সাত দিন পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। এছাড়া বীরগঞ্জ বাজার কমিটির পক্ষ থেকেও তারা আশানুরূপ সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বজনরা।
মানববন্ধন চলাকালীন সেখানে উপস্থিত কিছু ব্যক্তির সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে নিখোঁজ বিল্লাল মিয়ার ছোট ভাই মো. রুকন মিয়া আহত হন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বীরগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, তারা এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত এবং বিল্লাল হোসেনকে উদ্ধারের বিষয়ে তাদের প্রচেষ্টায় কোনো কমতি নেই।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মেহেদী মাকসুদ জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আশুজিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট অফিসার মো. নুরুল ইসলাম বিষয়টি তদন্ত করছেন। আশা করছেন, খুব দ্রুতই এই রহস্যের উদঘাটন হবে। নিখোঁজ বিল্লাল হোসেনের শোকার্ত পরিবারের সদস্যরা তাকে জীবিত ফিরে পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।