ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজে আজ বুধবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতেও ঈদের প্রধান জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি এবং হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
ইসলাম ধর্মমতে, মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হন নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি করার। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তিনি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ও আদরের পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কেই কোরবানির সিদ্ধান্ত নেন। পিতার এই সিদ্ধান্ত সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেন পুত্র ইসমাইল (আ.)। এরপর পুত্রকে কোরবানির প্রস্তুতি নেন পিতা ইব্রাহিম (আ.)। কিন্তু মহান আল্লাহতায়ালা ইব্রাহিম (আ.)-এর এই কঠোর আনুগত্য ও চরম ত্যাগকে গ্রহণ করেন এবং হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের মহিমাকে স্মরণ করে মুসলমানরা প্রতি বছরের ১০ জিলহজ আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করেন।
সৌদি গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, হজের মূল রুকন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান শেষে গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সূর্যাস্তের পর লাখো হজযাত্রী মুজদালিফায় পৌঁছান। তালবিয়া পাঠ করতে করতে শান্ত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে তাঁরা সেখানে রাত যাপন করেন। আজ স্থানীয় সময় ফজরের নামাজের পর হাজিরা মিনায় গিয়ে জামারাত আল-আকাবায় পাথর নিক্ষেপসহ হজের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন। আজ কোরবানির দিন হাজিরা মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। এগুলো হলো— জামারাত আল-আকাবায় পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি করা, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা, তাওয়াফে ইফাদা এবং সাঈ সম্পন্ন করা।
হজযাত্রীদের সুবিধার্থে মুজদালিফায় আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাজিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঈদের আগে গতকাল হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা উকুফে আরাফা পালন করেন হাজিরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ মুসল্লি আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। ইহরাম পরিহিত হাজিদের দোয়া, তওবা ও লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রচণ্ড গরম ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় হাজিদের জন্য সার্বক্ষণিক সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করছে। পাশাপাশি ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা, নজরদারি ক্যামেরা ও নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।