সকল মেনু

বৃষ্টিতে ভিজে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়া সেই শিক্ষিকাকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

ফেনীতে ফুটবল টুর্নামেন্ট চলাকালে প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ভিজে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঠে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দেওয়া সেই শিক্ষিকাকে ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার রাতে ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো এই উপহার গিল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তার পারভীনের হাতে তুলে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল ফেনী পিটিআই স্কুল মাঠে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উপজেলা পর্যায়ের সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় সদর উপজেলার গিল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ম্যাচ চলাকালে প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তার পারভীন নিজের বিদ্যালয়ের ক্ষুদে খেলোয়াড়দের অনবরত উৎসাহ ও নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। অনুপ্রেরণাদায়ী সেই মুহূর্তটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আবদুল মতিন। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলে এবং একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জেলা প্রশাসন ওই শিক্ষিকার বাড়িতে ঈদ উপহার পৌঁছে দেয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত সহকারী শিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তার পারভীন বলেন, তিনি শিক্ষার্থীদের সব সময় নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসার ও আচরণ করার চেষ্টা করেন। তাঁর বাবা এবং স্বামীও ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সেই অনুপ্রেরণাতেই তিনি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সবসময় মাঠে থেকে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে উপহার পাওয়া তাঁর জন্য অনেক বড় একটি প্রাপ্তি এবং এত ছোট্ট একটি বিষয়ও যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজর এড়ায়নি, তা ভেবে তিনি সত্যিই আপ্লুত।

ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, খেলা চলাকালে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষিকার এমন ভালোবাসা ও উৎসাহ দেওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তাঁরই নির্দেশনা পেয়ে জেলা প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই ঈদ উপহার নিয়ে এসেছে। শিক্ষিকার এমন ভূমিকা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষক খালেদা পারভীন নিজেও ছাত্রজীবনে ব্যাডমিন্টন ও হ্যান্ডবল খেলোয়াড় ছিলেন। তাঁর প্রয়াত স্বামী গোলাম রব্বানী ছিলেন একজন ফুটবল প্রশিক্ষক এবং তাঁর ভাই মো. মামুনও একজন ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। উপহার প্রদানকালে ফেনী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার সৌভিক রায় ও মো. শাহরিয়ার সজল, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আবদুল মতিন, গিল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেনা সুলতানা এবং সহকারী শিক্ষক শাহিন আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

×