বখাটেদের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার মোহনার আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া। ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় আজ রোববার (২৪ মে) দুপুরে বীরগঞ্জ বাজারে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
নিহত মোহনা উপজেলার জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বীরগঞ্জ এলাকার দিনমজুর হিরন মিয়ার মেয়ে। বখাটেদের অন্যায় ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে গত ৮ মে সে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নগুয়া গ্রামের শামীম মিয়া (২৪) ও সিংহেরগাঁও গ্রামের জিহাদ মিয়া (২২) দীর্ঘদিন ধরে মোহনার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আসছিল। এই ধারাবাহিক ব্ল্যাকমেইল ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই আত্মহননের পথ বেছে নেয় সে। এ ঘটনায় গত ১৪ মে নেত্রকোনার আমলী আদালতে দুই বখাটের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের বাবা।
রোববার বীরগঞ্জ বাজারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে মোহনার দিনমজুর বাবা হিরন মিয়া কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমি দরিদ্র মানুষ। বখাটেরা আমার মেয়েটাকে বাঁচতে দিলো না। আমি এই হত্যার প্ররোচনাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসি চাই।”
সহপাঠী জলি ও মীম জানায়, এই ঘটনার পর থেকে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, “বখাটেরা পার পেয়ে গেলে সমাজে অপরাধ আরও বাড়বে।”
মানববন্ধন শেষে বীরগঞ্জ বাজারে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিল থেকে শিক্ষার্থীরা ও সাধারণ জনতা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দেন। মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি হুমায়ুন রায়হানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। কেন্দুয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি রুজু করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।