সকল মেনু

বাঘারপাড়ায় পরিবর্তনের অঙ্গীকার: দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়তে চান মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ৬ নং দোহাকুলা ইউনিয়নে এখন নির্বাচনী আমেজ। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এলাকার উন্নয়ন ও যোগ্য নেতৃত্বের কথা। এই নির্বাচনী লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এবং একটি আদর্শ ও আধুনিক ইউনিয়ন গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন।

দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এই নেতা সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানে তিনি এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা ও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। পাঠকদের জন্য তার সেই বিশেষ সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো:

কেন নির্বাচন করতে চান ও আগের অভিজ্ঞতা

নির্বাচনে অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য জানতে চাইলে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছি। মানুষের ছোট ছোট সমস্যাগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছি। মূলত ইউনিয়নের সামগ্রিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নাগরিক সেবার মান বাড়াতেই আমি চেয়ারম্যান পদে লড়তে চাই।”

তিনি আরও জানান, জনপ্রতিনিধি না হয়েও তিনি সবসময় মানুষের পাশে ছিলেন। বিগত দিনগুলোতে শীতবস্ত্র বিতরণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং গ্রামীণ রাস্তাঘাট সংস্কারের মতো বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।

জনসম্পৃক্ততা ও এলাকার প্রধান সমস্যা

“ভোটের মাঠে সাধারণ মানুষ আপনাকে কেন বেছে নেবে?”—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কারণ আমি শুধু নির্বাচনের মৌসুমে ভোটের জন্য আসি না, আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকি এবং সমস্যার বাস্তব সমাধানে বিশ্বাস করি।”

তার দৃষ্টিতে বর্তমান ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো— রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা। এর পাশাপাশি তরুণ সমাজের মধ্যে কর্মসংস্থানের অভাবকেও তিনি একটি বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেন।

উন্নয়ন ও তরুণদের নিয়ে মহাপরিকল্পনা

রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দের শতভাগ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আগে কাজ শুরু করা হবে।

বেকার তরুণদের অন্ধকার পথ থেকে ফিরিয়ে আলোর পথে আনতে তার পরিকল্পনা বেশ আধুনিক। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তা এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করব। এছাড়া মাদক ও কিশোর অপরাধ রোধে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপক প্রসার ঘটানো হবে।”

কৃষক, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার

বাঘেরপাড়ার অর্থনীতি কৃষিপ্রধান হওয়ায় কৃষক ও শ্রমজীবীদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করছেন এই প্রার্থী। কৃষকরা যেন সঠিক সময়ে সার, বীজ ও সেচ সহায়তা পান তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

পাশাপাশি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো, দরিদ্রদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা আরও কার্যকর করা এবং নিয়মিত বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্প আয়োজনের কথা জানান তিনি।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ১০০ দিনের ‘অ্যাকশন প্ল্যান’

দুর্নীতি ও সরকারি অনুদান নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বিষয়ে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে খোলামেলা তালিকা প্রকাশ করা হবে। কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ এলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত ‘গণশুনানি’ ও উন্মুক্ত সভার আয়োজন করব।”

তিনি জানান, নির্বাচিত হতে পারলে প্রথম ১০০ দিন হবে তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে রাস্তা, পানি ও নাগরিক সেবা সচল করার কাজ শুরু করবেন। তার নির্বাচনী মূল লক্ষ্য ও সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি হলো— একটি “দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন” গড়ে তোলা।

সমালোচনা ও পরাজয় নিয়ে উদার মানসিকতা

সাক্ষাৎকারের শেষাংশে পরাজয়ের ভয় বা সমালোচনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এক পরিপক্ক রাজনীতিকের মতো উত্তর দেন মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, “সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ। গঠনমূলক সমালোচনা আমি সবসময় ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করি। আর আমি বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি দিতেই পছন্দ করি, কোনো কাজে বাধা এলে জনগণকে সেটিও খোলামেলা জানাব। সর্বোপরি, জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, মানুষের সেবা করা আমার দায়িত্ব। পরাজিত হলেও আমি আগের মতোই আজীবন মানুষের পাশেই থাকব।”

বাঘেরপাড়া উপজেলার সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের মতো এমন সৎ, কর্মঠ এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে এলাকার চেহারাই বদলে যাবে। এখন দেখার বিষয়, ব্যালট বাক্সে সাধারণ জনগণ তার এই জনকল্যাণমুখী ভাবনার কী প্রতিফলন ঘটায়।

ফন্ট সাইজ:
2Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

×