রাজধানীর গুলশানে এক বৃদ্ধ পথচারীকে মারধরের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত ও সমালোচিত নাম এখন রুশ বংশোদ্ভূত মডেল মনিকা কবির। সম্প্রতি ওই ঘটনার জেরে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও আইনি নোটিশ পাঠানোর পর এবার সাধারণ মানুষের প্রতি চরম ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এক মুঠোবার্তায় নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি জানান, তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেলে আর কোনো বিদেশি মেয়ে এখানে আসবে না। বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে নিজের দেশে তুলে ধরেছেন দাবি করে তিনি আরও বলেন, দেশ তাকে কষ্ট দিলে তিনিও পাল্টা কষ্ট দেবেন।
গত মঙ্গলবার বিকেলে গুলশান-২ এলাকায় টিকটক ভিডিও ধারণের সময় এক বৃদ্ধ পথচারীর ব্যাগের কোনা মনিকার গায়ে লাগলে তিনি মেজাজ হারান। অভিযোগ ওঠে, তিনি ওই বৃদ্ধকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার ব্যাগ ছুড়ে মেরে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এই ঘটনার ভিডিও নিজেই সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এরই প্রেক্ষিতে গত ১২ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মনিকা কবিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাজ্জাদ আল ইসলাম। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিকে হাজির হতে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া এই মডেলের প্রকৃত নাম মারিয়া ভ্যালিরিয়েভনা, যাকে তার পরিবার মনিশকা নামে ডাকে। তার মা রুশ নাগরিক এবং বাবা একজন ভারতীয় ব্যবসায়ী। ২০১২ সালে বাবার ব্যবসার সূত্রে প্রথম বাংলাদেশে আসা মনিকার জীবনযাপন ও চলাফেরা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল, যা সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর নতুন মাত্রা পেয়েছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।