জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করেছে যে সরকার পরাজিত প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব দিয়ে কার্যত কোটাভিত্তিক নিয়োগের সংস্কৃতি চালু করছে। দলটির মতে জুলাইয়ের আন্দোলনের মূল স্পিরিট ছিল কোটা নয় মেধা কিন্তু সরকার এখন সেই মেধাকে উপেক্ষা করে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
এ ধরনের পদায়নকে তারা গণতান্ত্রিক রীতি জনমত এবং জুলাইয়ের চেতনার প্রতি অবজ্ঞা এবং রাজনৈতিক পুনর্বাসনের একটি কৌশল হিসেবে দেখছে।মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
তিনি বলেন সম্প্রতি এগারোটি সিটি কর্পোরেশন এবং বয়ত্রিশটি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যেখানে এমন ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে যারা বিগত নির্বাচনে জনগণের ভোটে পরাজিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে সরকার মেধা ও জনসমর্থনের পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। কুড়িগ্রাম গাইবান্ধাসহ কয়েকটি জেলায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হওয়া সত্ত্বেও পরাজিতদের প্রশাসক করা হয়েছে। বিশেষ করে গাইবান্ধা-৩ আসনে পরাজিত এক নেতাকে জেলা পরিষদ প্রশাসক করাকে তিনি জনমতের সরাসরি অবমাননা বলে উল্লেখ করেন।
মাওলানা হালিম বলেন জাতীয় নির্বাচনের অল্প সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে এভাবে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। গত আঠারো বছর ধরে যে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে বর্তমান সরকার সেই একই পথে হাঁটছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যদের সরিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুনদের বসানো হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে পেশাদারের পরিবর্তে একজন ব্যবসায়ীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন সরকার যদি জনমতের তোয়াক্কা না করে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন চালিয়ে যায় তাহলে রাজপথে আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান প্রচার বিভাগের সহকারী মুজিবুল আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।