আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আসন্ন ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত আয়োজন করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এই জামাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করবে।
গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১ মার্চ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মামুন আল মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত সভার কার্যবিবরণী প্রকাশ করা হয়। সভায় ঈদ জামাত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। নারীদের জন্য জাতীয় ঈদগাহের দক্ষিণ দিকে আলাদা প্রবেশপথ ও আসনের ব্যবস্থা রাখার বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে।
প্রধান জামাতের ইমাম নির্বাচনের জন্য তিনজন আলেম, কোরআন তিলাওয়াতের জন্য তিনজন ক্বারীর এবং উপস্থাপকের জন্য তিনজনের তালিকা ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। তালিকা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় একজন ইমাম ও বিকল্প ইমাম, একজন ক্বারী ও বিকল্প ক্বারী এবং একজন উপস্থাপক ও বিকল্প উপস্থাপক মনোনয়ন দেবে। ঈদের নামাজের আগে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে হামদ-নাত, ইসলামি গজল পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হবে।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দান সমতলকরণ, ঘাস কাটা, প্যান্ডেল নির্মাণ (বৃষ্টির জন্য ত্রিপল স্থাপন), ওযু-পানি, পাত্র ও ট্যাপ, মোবাইল টয়লেট এবং সুপেয় পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। হাইকোর্ট মাজার মসজিদের ওযুর স্থানগুলো আগে থেকে খোলা রাখতে হবে এবং সেখানে কর্মচারী নিয়োজিত রাখতে হবে। অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে পানি নিষ্কাশনের জন্য গণপূর্ত বিভাগের পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের যৌথ সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদগাহ মাঠের চারপাশে মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হবে।
ঈদের দিন জাতীয় ঈদগাহে বিশেষ মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। প্রথম কাতারকে আগের মতো লম্বা করতে হবে যাতে ভিআইপিরা সেখানে দাঁড়াতে পারেন। বিদেশি রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক ও তাদের স্ত্রীদের জন্য আগে থেকে স্থান সংরক্ষণ করতে হবে। তাদের অভ্যর্থনার জন্য জেলা প্রশাসন ঢাকার নারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (পুলিশ, র্যাব, এসএসএফ) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঈদগাহ ও আশপাশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশ স্কাউটদের সিটি এসবির ভেটিং সাপেক্ষে নিয়োজিত করা হবে। প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে স্থাপন করা হবে। অগ্নিনির্বাপণের জন্য ফায়ার সার্ভিস ইউনিট মোতায়েন থাকবে।রাজধানীর প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপে ‘ঈদ মোবারক’ লেখা ব্যানার (বাংলা ও আরবি) দিয়ে সাজানো হবে। ঈদের আগের রাত থেকে পরদিন রাত ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে আলোকসজ্জা করা হবে।
দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধাশ্রম ও দুস্থকল্যাণ কেন্দ্রে ঈদের দিন উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ঈদের দিন ঢাকার শিশুপার্ক, জাতীয় জাদুঘর, আহসান মঞ্জিল ও লালবাগ কেল্লায় বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকবে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঈদ উদযাপিত হবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।