যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চীনসহ ১৫টিরও বেশি দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এসব দেশ ইরানে ভ্রমণের ব্যাপারে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করেছে।
এই পদক্ষেপের মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মোট পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছে। গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় পঞ্চম দফা আলোচনা শেষ হয়েছে, যার মাধ্যমে এই বৈঠক সিরিজের সমাপ্তি ঘটেছে।আলোচনা শেষের পর ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, পাঁচ দফা আলোচনার ফলাফলে তিনি সন্তুষ্ট নন।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, কিছু ছোটখাটো বিষয়ে সমঝোতা হলেও ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি—এটাই ট্রাম্পের অসন্তোষের প্রধান কারণ। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর থেকেই বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের আহ্বান জানাতে শুরু করে। এর পাশাপাশি জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় এবং ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যেকোনো সময় ইরানে হামলা হতে পারে।এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, তারা ইরানে ‘প্রতিরোধমূলক হামলা’ শুরু করেছে। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জরুরি বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই ঘোষণা দেন। হামলা শুরুর পরপরই তিনি পুরো ইসরায়েল জুড়ে ‘বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।