সকল মেনু

ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে ‘স্বাগত র‍্যালি’

‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে এক বর্ণাঢ্য ‘স্বাগত র‍্যালি’ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া এই র‍্যালি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামের নেতৃত্বে র‍্যালিতে সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা মাথায় রঙিন ক্যাপ, হাতে সংগঠনের পতাকা, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে আনন্দঘন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে র‍্যালিটি পরিচালনা করেন। শাহবাগে পৌঁছলে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক শাহ মাহফুজুল হক এবং সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ৪৯ বছরের পথপরিক্রমায় ছাত্রশিবির বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছে। শত জুলুম-নির্যাতন সত্ত্বেও ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে সংগঠনটি অপরাজেয় কাফেলায় পরিণত হয়েছে। তিনি একটি সমৃদ্ধ, ইনসাফভিত্তিক ও আদর্শিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশ গঠনে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে ছাত্রশিবির ছাত্রসমাজের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে এবং এই কাফেলাই ভবিষ্যতে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আধিপত্যবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া আগামী নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তারা ঐতিহাসিক শাহবাগের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এখান থেকেই ছাত্রশিবিরের প্রথম কেন্দ্রীয় সভাপতি মীর কাসেম আলী ও দ্বিতীয় সভাপতি কামারুজ্জামানকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি ভারতীয় আধিপত্যবাদের ছকে মব সৃষ্টি করে ভুয়া বিচারের মাধ্যমে শহীদ করেছিল। সময়ের পরিক্রমায় সেই খুনি শক্তিকে পরাজিত করে ছাত্রশিবির আজ একই শাহবাগে গৌরবের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। এটি সত্যের পুনরুত্থানের প্রমাণ যে, জুলুমে আদর্শকে স্তব্ধ করা যায় না; শাহাদাতের রক্তে রঞ্জিত হয়ে এই কাফেলা আরও শক্তিশালী হয়েছে। তারা শহীদদের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করেন। সমাবেশে শহীদ আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ ও ওসমান হাদীর আত্মত্যাগ স্মরণ করে তাদের হত্যার যথাযথ বিচারের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ আহসান, গণতান্ত্রিক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান মাহবুব, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মানবসম্পদ ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ফাউন্ডেশন সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভূইয়া, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ ডা. রেজওয়ানুল হক, শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সেক্রেটারি ও জাকসু জিএস মাজহারুরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

×