বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভারত-পাকিস্তানের হাই-প্রোফাইল ম্যাচ এবার হচ্ছে না। বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে আইসিসির ‘দ্বিচারিতা’র বিরুদ্ধে এই ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তান সরকারের ঘোষণা অনুসারে, দলটি আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশ নেবে, কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণীয় ম্যাচটি বাতিল হয়ে যাচ্ছে, যা আইসিসি, ব্রডকাস্টার এবং স্পনসরদের জন্য বড় আর্থিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে, এই একটি ম্যাচ না হওয়ায় ব্রডকাস্ট রেভিনিউ, অ্যাডভারটাইজমেন্ট এবং স্পনসরশিপ থেকে ২৫০-৫০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২২০০-৪২০০ কোটি টাকা) পর্যন্ত লোকসান হতে পারে।
একইসঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)-এর ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে বলে আলোচনা চলছে—যেমন আর্থিক জরিমানা, রেভিনিউ শেয়ার কাটা, এশিয়া কাপ বা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে নিষিদ্ধ হওয়া ইত্যাদি। আইসিসি ইতিমধ্যে বিবৃতি দিয়ে বলেছে, এমন ‘সিলেক্টিভ পার্টিসিপেশন’ ক্রিকেটের স্পিরিটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।
তবে অতীতের ঘটনা পর্যালোচনা করে অনেকে মনে করছেন, পাকিস্তানের আর্থিক ক্ষতি হয়তো খুব কম হবে বা একেবারেই হবে না। কারণ এই বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার নিজে, ক্রিকেট বোর্ড নয়।
উল্লেখ্য যে, ১৯৯৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কায় খেলতে যায়নি (নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরকার অনুমতি দেয়নি)। ২০০৩ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করে (সরকারি নির্দেশে)।
এই সব ক্ষেত্রেই আইসিসি কোনো আর্থিক শাস্তি দেয়নি। অংশগ্রহণ ফি, রেভিনিউ শেয়ার পুরোপুরি দেওয়া হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। কারণ সিদ্ধান্তগুলো সার্বভৌম সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল, বোর্ডের নয়। আইসিসি সরকারি নির্দেশিত বয়কটকে বোর্ড-পর্যায়ের বয়কটের চেয়ে ভিন্নভাবে বিবেচনা করে।একই যুক্তিতে, পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে আইসিসির পক্ষ থেকে কোনো বড় আর্থিক লোকসান বা শাস্তি আরোপ করা কঠিন হবে।
সাবেক আইসিসি চেয়ারম্যান এহসান মানি বলেছেন, “ডাবল স্ট্যান্ডার্ড” রাখা যাবে না—ভারত যখন ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে খেলতে যায়নি, তখন কোনো শাস্তি হয়নি। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলায় এবং টুর্নামেন্টের অখণ্ডতা বজায় রাখে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।